
বিশেষ প্রতিনিধি : চট্টগ্রামে বিচারকের আদেশের তথ্য গোপন করে ১ আসামিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে জিআরও এবং তার সহকারীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মামলার বাদী উদ্বিগ্ন হয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী নূরুল কবিরের নিকট দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে পহেলা জুন নূরুল কবিরকে তুলে নিয়ে জনৈক সোহেলের গ্যারেজে আটকে রেখে মারধর এবং মোটরসাইকেল ভাংচুর করে নগদ ১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চাঁদা না দিলে পুনরায় অপহরণের হুমকি দেয়। উক্ত ঘটনার পরদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চক্রের সদস্যরা দলবল নিয়ে এসে নূরুল কবিরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় তার স্ত্রীকেও ব্যাপক মারধর করে। উক্ত ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় এমরনাসহ কয়েকজনকে আসামী করে পৃথক দুটি মামলা (নং-৪ এবং -২৩)রুজু হয়।
উক্ত মামলা দুটির এজাহারনামীয় গুরুত্বপূর্ণ আসামী মো: ইমরানকে গ্রেফতার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ০৩/০৭/২০২৬ ইং তারিখে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেন। ০২/০৮/২০২৬ ইং তারিখে পুলিশ ২৩(৬)২৬ নং মামলায় ইমরানকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য ০৬/০৮/২০২৬ ইং তারিখ ধার্য্য করে কারাগারে PW প্রেরণ করেন । কিন্তু ০৪/০৮/২০২৬ ইং তারিখে আসামী পক্ষের আইনজীবী উভয় মামলায় জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। জামিননামা কারাগারে পৌঁছলে আসামি কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে।
রিমান্ড শুনানি নিষ্পত্তি না করে আদালত কিভাবে আসামির জামিন মঞ্জুর করলো সে বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, জিআরও এর দায়িত্ব থাকা রাজীব ও তার সহকারী মোশাররফ আসামি পক্ষ থেকে বড় অংকের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিচারকের রিমান্ড শুনানির আদেশ গোপন রেখে আসামীকে জামিন পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন।
এই ব্যাপারে মামলার বাদী নুরুল কবির বলেন, রিমান্ড শুনানি নিষ্পত্তি হওয়ার পূর্বে আসামি জামিন পাওয়ার ঘটনায় তিনি হতবাক হয়েছেন। আসামি ইমরান জামিনে গিয়ে তাকে পুনরায় মারধর এবং বাড়ীতে হামলা চালিয়ে লুটপাটের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া তাকে রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় পুলিশ চোরাইকৃত মালামালও উদ্ধার করতে পারেননি। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে জিআরও’র দায়িত্বে থাকা রাজীব কান্তি দে বলেন, রিমান্ড শুনানী নিষ্পত্তি না করে আদালত আসামিকে কিভাবে জামিন দিয়েছেন সেটা তার জানা নেই। PW বাতিল করা না হলে কারা কর্তৃপক্ষ আসামীকে মুক্তি দিতে পারে না, কিন্তু এই আসামীকে কিভাবে মুক্তি দেওয়া হলো সেই বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, কোন মামলায় আদালত PW প্রেরণ করার পর যদি উক্ত মামলায় জামিননামা প্রেরণ করা হয় তাহলে আসামিকে মুক্তি দিতে হয়। এক্ষেত্রে PW প্রত্যাহারের আদেশের প্রয়োজন হয় না।
সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মোঃ রফিকুল হক বলেন, রিমান্ড শুনানি নিষ্পত্তি না করে আসামিকে জামিন দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এখানে কোন ধরনের সূক্ষ্ণ কারচুপি হয়েছে সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
