শিরোনাম

কক্সবাজার বিডিএস জরিপ: সার্ভেয়ারদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি : কক্সবাজারের বিডিএস জরিপে চরম দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভূমি মালিকরা।খতিয়ান সৃজনের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে । সার্ভেয়াররা একটা সিন্ডিকেট করে ভূমি মালিকদের জিম্মি করে রেখেছেন মর্মে জানা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিডিএস জরিপ শুরু হওয়ার পর থেকে সার্ভেয়ার মাসুম হোসেন, সার্ভেয়ার বশর চৌধুরী, সার্ভেয়ার আকাশ, সার্ভেয়ার সগীর এবং সহকারী আরমানের বিরুদ্ধে অর্থ ছাড়া সেবা না দেওয়ায় অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন ভূমি মালিকরা।

টাকা ছাড়া খতিয়ান সৃজন করার আবেদন করলে শুরু হয় বিভিন্ন টালবাহানা। খসড়া খতিয়ান এবং আপত্তি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রত্যেক খতিয়ান  ও আপত্তি দায়ের করার জন্য নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। ১০০০ টাকার পর্চা ৩০০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ৫/৬ হাজার টাকাও নিচ্ছে এমন অভিযোগ ভূমি মালিকদের। এতে করে চরম ক্ষুদ্ধ কক্সবাজার সদর উপজেলার ভূক্তভোগী ভূমি মালিকরা।

সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম দিয়ারা অফিসের সেটেলমেন্ট অফিসার সুজন ত্রিপুরার নিজস্ব লোক দিয়ে ডিপি ক্যাম্প পরিচালনা করছে।

গত ২৪/০৬/২০২৫  দুর্নীতি দায়ে ডিপি ক্যাম্পের আলমগীর হোসেন ও প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু নামে দুইজন অসাধু কর্মকর্তাদের বদলি হলেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টির অগোচরে রয়ে গেছে অনেক দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার। তাদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, তারা বিডিএস জরিপের সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে খতিয়ানের বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে বিভিন্ন কলাকৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এসব দূর্নীতিবাজ সার্ভেয়ারদের অপরাধ শনাক্ত করে তাদেরকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে, কক্সবাজার সদরে আরো বড় ধরনের  সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন স্থানীয়রা । তাদের এই অসৎ কর্মকাণ্ডের কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনাম নিয়ে বিপাকে পড়বেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধান আরো জানা গেছে সেটেলমেন্ট অফিসার সুজন ত্রিপুরার নিজস্ব লোক দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য সহ নানান অনিয়ম পরিচালনা করছেন । তথ্য মতে, ডিপি ক্যাম্পে আবু শাহীন আযাদ
নামে ১জন সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার থাকলেও মূল ডিপি ক্যাম্প পরিচালনা করছে সুজন ত্রিপুরা। জমির মালিকদের বাধ্য করা হচ্ছে ঘুষ দিতে।

ডিপি ক্যাম্পের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে গেলেও কৌশলে আপত্তি গ্রহণের সময় বৃদ্ধি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। আপত্তি চলমান থাকলেও আলমগীরের নেতৃত্বে রয়েছে আরেকটি দালাল চক্র তাদের দিয়ে আপত্তি শুনানির সময় মামলার রায় পক্ষে দেওয়ার আশ্বাসে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী ভূমি  মালিকদের।

নজরুল ইসলাম নামের একজন সেবাগ্রহীতা জানান- ডিপি ক্যাম্পে প্রতিটি আপত্তি মামলায় ৩/৪ হাজার করে দিতে হচ্ছে। এই বিষয়ে সুজন ত্রিপুরাকে অভিযোগ দেওয়ায় লোক দেখানো অফিসে তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট টিকে বকাঝকা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো বহাল তবিয়তে অভিযুক্ত সৈয়দ।

তেতৈয়া মৌজার ডিপি ক্যাম্পের সেবা নিয়ে নাখোশ স্থানীয়রাও। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ এই অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা মিলে না। এ অনিয়মের সাথে অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। এছাড়াও রয়েছে দালালদের দৌরাত্ন্য।

সেবাগ্রহীতারা জানায়, জমির রেকর্ডের খসড়া পর্চা, জমি আপত্তি দায়ের সংক্রান্ত সব সেবার ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত টাকা গুণতে হয়। সকল অনিয়মের মূলহোতা হচ্ছে চট্টগ্রাম সেটেলমেন্ট অফিসার সুজন ত্রিপুরা।

জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ভূমি মালিকদের নিকট থেকে নির্দিষ্ট অংকের রাজস্ব কোর্ট ফি নেওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে। অনেকে ভয়ে আপত্তি শুনানি করার সময় ক্ষতি হবে চিন্তা করে কথা বলছেন না। এই সিন্ডিকেটটি বহিরাগত দালাল দিয়ে জমির মালিকদের এই বার্তা দিচ্ছে ঘুষ না পেলে হতে হবে হয়রানির শিকার।

এ বিষয়ে সুজন ত্রিপুরা কাছে বক্তব্য নেওয়া জন্য ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।

Check Also

সাতকানিয়ায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ইউএনওর গৃহকর্মী, মামলা হয়নি ২ মাসেও

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দুই মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে প্রকাশ্যে এসেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী …