
নিজস্ব প্রতিবেদক :চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে এক সাংবাদিকের বাড়ীতে দিন-দুপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার ৩ দিন পর অবশেষে চুরির মামলা গ্রহণ করে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উক্ত ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী নূরুল কবির।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়া এলাকার সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী নূরুল কবিরের বাড়ীতে ২০২৪ সালে নগদ ১৪ লক্ষ টাকা চুরির ঘটনায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী ইলিয়াস হোসেন অপুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৫ সালের প্রথম দিকে তাহসিন হত্যা ও চুরির মামলা থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ইলিয়াস হোসেন অপু নুরুল কবিরের নিকট সরাসরি ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীসহ মামলা তুলে না নিলে ডিশ-ওয়াইফাই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকী প্রদান করেন।
তাদের দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত ০১/০৬/২০২৬ ইং তারিখে সাবেক যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন সোহেল ও ইলিয়াস হোসেন অপুর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা নুরুল কবিরকে তুলে নিয়ে সোহেলের রিক্সার গ্যারেজে আটকে রেখে ২ দিনের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী পূর্বক মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেয়। উক্ত ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন নুরুল কবিরের বাসার সামনে এসে তাকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার স্ত্রীকেও ব্যাপক মারধর করে সন্ত্রাসীরা। উক্ত ঘটনায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হলেও অজানা কারণে উল্লেখযোগ্য আসামিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এরপর থেকে সন্ত্রাসীরা নূরুল কবিরকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকী দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ডিশ-ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তার ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে নুরুল কবির অন্যত্র বসবাস করলেও তার স্ত্রী-সন্তানেরা বাসায় থাকতেন।
গত শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) জুমার নামাজের সময় অপু-সোহেলের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি ডাকাতদল ডাকাতির উদ্দেশ্যে নুরুল কবিরের বাড়ির সিসি ক্যামরা ভাংচুর করে বাসায় ঢুকে কবিরের স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে বাথরুমে আটকে রেখে নগদ ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপসহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরই সিএমপির পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
ঐদিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী নুরুল কবির থানায় ডাকাতির ঘটনায় এজাহার প্রদান করলেও অজানা কারণে পুলিশ ৩দিন পর চুরির মামলা গ্রহণ করে।
এমরান, ফয়সাল, ইলিয়াস হোসেন অপু, জয়নাল আবেদীন সোহেল, আনোয়ার, রবিউল হাসান, জালাল আহম্মেদ পারভেজ এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করে ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৪২৭/ ৩৮০/ ৫০৬/ ৩৪ ধারায় রুজুকৃত পাঁচলাইশ থানার মামলা নং ২৪(৮)২৬।
৩০ আগষ্ট দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এজাহারনামীয় আসামি রবিউল হাসান, জালাল আহম্মেদ পারভেজ এবং ফয়সালকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন।
ভুক্তভোগী নুরুল কবির অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ডাকাতির ঘটনার পর পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সব আলামত সংগ্রহ করেন। সুস্পষ্ট ডাকাতির ঘটনার পরেও পুলিশ কেন ডাকাতি মামলা না নিয়ে চুরির মামলা নিলো সেটা বুঝতে পারছেন না । তিনি আরো বলেন ডাকাতির মামলার এজাহার দিলেও থানা পুলিশ এজাহার পরিবর্তন করে চুরির মামলার এজাহার তৈরি করে সেখানে স্বাক্ষর নেন। পূর্বে দায়েরকৃত মামলায় মূল আসামিদের পুলিশ গ্রেফতার না করায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে আমার উপর বারবার হামলা এবং বাসায় ডাকাতির মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে। পুলিশ ৩ আসামিকে গ্রেফতার করেছে, অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করি।
ডাকাতির মামলা না নিয়ে চুরির মামলা কেন নেওয়া হলো জানতে চাইলে অফিসার ইনচার্জ বলেন, বাদীর স্বাক্ষরিত যেই অভিযোগ পেয়েছেন সেটা অনুযায়ী মামলা রুজু হয়েছে।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
