শিরোনাম

বাঁশখালীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৮- আটক ১০

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নে সরকারি খাসজমির মাছের ঘের (প্রজেক্ট) দখল ও ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান (৩০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ৭ থেকে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে ।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরল, বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় স্থানীয় মনছুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান সরল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল আলীর ছেলে। তিনি মনছুর গ্রুপের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় মনছুর গ্রুপের আরও তিন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন, একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দলিলুর রহমানের ছেলে মো. এনাম (৩৫), ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আঙ্গুর মিয়ার ছেলে হেলাল (৩২) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদের ছেলে কাইছার (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়া, কবির গ্রুপের আরো ৪ থেকে ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি খাসজমিতে গড়ে ওঠা মাছের প্রজেক্টের দখল ও ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনছুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার গভীর রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে একাধিক পুলিশ টিম অভিযান পরিচালনা করছে।

ইতোমধ্যে ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সকলকে শান্ত ও সংযত থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানায়।

Check Also

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে এলেন উপসচিব ডা.মো. মোস্তাফিজুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বেসরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব …