শিরোনাম

পটিয়ায় জৈব সার উৎপাদনে সফল উদ্যোক্তা বজলুল বারী

পটিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কৃষিখাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বারী এগ্রো ফার্মের উদ্যোক্তা বজলুল বারী চৌধুরী। দীর্ঘ সংগ্রাম, ক্ষতি ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি এখন খামারের বর্জ্য থেকেই উৎপাদন করছেন পরিবেশবান্ধব জৈব সার। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পটিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বারী এগ্রো ফার্মের উৎপাদিত জৈব সারের নতুন মোড়ক উন্মোচন করেন ফারহানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ কল্পনা রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, খামারের গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, ধানের খড়, কচুরিপানা, নিমের খৈল, তুষ, শুকনো পাতা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে এই সার উৎপাদন করা হচ্ছে। এই সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, মাটির গঠন উন্নয়ন এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বজলুল বারী চৌধুরী বলেন, ২০১০ সালে অনাবাদি জমিতে ধান চাষের মাধ্যমে তার কৃষি উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়। পরে মাছ চাষ, পোনা উৎপাদন, ডিমপাড়া মুরগির খামার ও দুধেল গাভির খামার গড়ে তুললেও বিভিন্ন সময়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তাকে। তবে প্রতিকূলতায় হার না মেনে নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে যান তিনি।
পরবর্তীতে তিনি ভুট্টা, সয়াবিন, সুইট কর্ন ও পপকর্ন চাষ শুরু করেন। পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য সাইলেজ উৎপাদন এবং উন্নত জাতের ধানের বীজ উৎপাদনেও সফলতা অর্জন করেন।
২০১৯ সালে কৃষি বিভাগের সহায়তায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের প্রশিক্ষণ ও যন্ত্র পাওয়ার পর তিনি জৈব সার উৎপাদনে আরও গুরুত্ব দেন। পরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে উৎপাদিত গ্যাস পরিবারের ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছেও সরবরাহ শুরু করেন। সেই প্ল্যান্টের বর্জ্য থেকেই বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে জৈব সার উৎপাদন করছেন তিনি।
বর্তমানে বারী এগ্রো ফার্ম বছরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টন জৈব সার উৎপাদনে সক্ষম। নিজ খামারের পাশাপাশি আশপাশের ছোট খামার থেকেও গোবর সংগ্রহ করা হয়। উৎপাদিত সার স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও সংগ্রহ করছে।
স্থানীয়দের মতে, বারী এগ্রো ফার্ম শুধু কৃষিতে নতুন সম্ভাবনাই তৈরি করেনি, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে খামারটিতে নিয়মিত ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, জৈব সার উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কৃষকরা কম খরচে অধিক ফলন পাবেন। কৃষি বিভাগ সবসময় এ ধরনের উদ্যমী কৃষি উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।

Check Also

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে এলেন উপসচিব ডা.মো. মোস্তাফিজুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বেসরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব …