শিরোনাম

কে.সি.দে ইনস্টিটিউট এর নির্বাচন ও ৮৭তম সাধারণ সভা সম্পন্ন

এম.জিয়াউল হক:চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মিনিষ্টেরিয়াল ননগেজেটেড অফিসার্স সমন্বয়ে গঠিত অফিসার্স ক্লাব তথা কে.সি.দে ইনস্টিটিউট এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ও ৮৭ তম সাধারণ সভা জাঁকজমকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২রা মে) স্থানীয় রঙ্গম কনভেনশন হলে এই নির্বাচন ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।প্রতি দুই বছর অন্তর এই ক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের বিধি মোতাবেক ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির মধ্যে ১০ জন জেলা প্রশাসকের ও ৫ জন বিভাগীয় কমিশনার অফিস থেকে সংগঠন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন।

এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ১০ জনের বেশি সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় মো: আলী, মো: নাছির উদ্দীন, স্বদেশ শর্মা, মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ মো: এরশাদ আলম, মো: সাইফুর রহমান, রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, চৌধুরী নিউটন বড়ুয়া, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও মো: খোরশেদ  আলম। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে বিভাগীয় কমিশনার  কার্যালয় থেকে ৭ জন প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০৩ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন মো: আবুল হোসেন, ১৮৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন মো: কামাল হোসেন, ১৮৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন মো: আক্তার হোসেন, ১৬৭ ভোট চতুর্থ হয়েছেন উদয় শংকর সেন, ১৩৯ ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন মোঃ আমির হোসেন । মোট ভোটার সংখ্যা ২৯৫, ভোট কাস্ট হয়েছে ২৩২ টি।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে  সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সবদের হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল কাদেরের যৌথ সঞ্চালনায় সাধারণ সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগামীতে পদের বিপরীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুইজন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদ সৃষ্টিসহ ক্লাবের বয়স্ক সদস্যদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ও মৃত্যু জনিত অনুদান ৩০,০০০ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়।

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল মোঃ কাদের  বলেন, তিনি ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চাকুরীতে যোগদানের পর ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ পূর্ববর্তী যতগুলি নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন প্রত্যেকটি নির্বাচনে নতুন এবং পুরাতনরা সবাই মিলে সর্বোচ্চ ভোটে  বিজয় করেছেন। প্রথমে নির্বাহী সদস্য, সাহিত্য পাঠাগার সম্পাদকসহ সর্বশেষ যুগ্ম সাধারণ  সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুনদেরকে সুযোগ করে দিতে এবার নির্বাচন করেননি। তার প্রস্তাবনার মধ্য দিয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যেহেতু এটি  সাংস্কৃতিক  সংগঠন, কাজেই সর্বপ্রথম  প্রয়াস নামের একটি ম্যাগাজিন সম্পাদনা করা হয়। এই পর্যন্ত ৬ টি ম্যাগাজিন সম্পাদিত হয়েছে। প্রতিষ্টাতা হিসেবে স্বর্গীয় কেসিদের নামটা স্থাপন করার মতো দূর্লভ কাজটাও করেছেন বলে জানান । আগামীর পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানের স্থানটি উদ্ধারের চেষ্টা করবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নব নির্বাচিত সদস্য মো: জামাল উদ্দিন বলেন, ১৯১৩ সালে সাবেক বিভাগীয় কমিশনার কে.সি.দে মহোদয় জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার পরবর্তী সময়ে কেসিদে ইনস্টিটিউট অফিসার্স ক্লাবে রূপ নেয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের প্রাণের সংগঠন এই ইনস্টিটিউট। প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর সাধারণ সভা ও নির্বাচন হয়। এবারে ৮৭তম সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে যারা বিজয় হয়েছেন তাদেরকে নিয়ে প্রাচীনতম সংগঠনকে আরো  শক্তিশালী ও মজবুত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সাধারণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুস, উদয়ন বড়ুয়া, স্বদেশ শর্মা, এম এ হাশেম, জাহাঙ্গীর আলম, নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, চৌধুরী নিউটন বড়ুয়া, নাসরিন আক্তার, নন্দিতা মজুমদার, মোঃ আইয়ুব ও হাসান প্রমুখ।

আনন্দ ভ্রমণ আয়োজন, ক্লাবের অবসরপ্রাপ্ত সদস্যগণকে সম্মাননা সংবর্ধনা ও বয়স্ক ভাতা প্রদান, শিক্ষা বৃত্তি প্রদান, চিকিৎসা ও মৃত্যুতে আর্থিক অনুদান প্রদান সহ সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণার্থে নানামুখী  কার্যক্রম পরিচালনা করেন কে.সি. দে ইন্সটিটিউট অফিসার্স ক্লাব।

উল্লেখ্য, ১৯১৩ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মিনিষ্টেরিয়াল ২য় ও ৩য় শ্রেণির ননগেজেটেড অফিসার্স ক্লাব নামে সাংস্কৃতিক বিষয়ক এই ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার স্বর্গীয় কে.সি.দে’র নির্দেশনায় ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর মি. জি.পি. হগ চট্টগ্রাম টাউন কাশমহলের অধীনে ৪০ শতক খিলা শ্রেণীর সরকারি খাস জমি ক্লাবের অনুকূলে ১৯১৫ সালে ১১ অক্টোবর সম্পাদিত কবুলিয়তনামা প্রদান করেন। ক্লাবের সদস্যবৃন্দ এই জমি পাওয়ায় কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনারের স্মরণে  নন -গেজেটেড অফিসার্স ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে ক্লাবের নামকরণ করেন কে.সি.দে ইনস্টিটিউট অফিসার্স ক্লাব।

Check Also

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে এলেন উপসচিব ডা.মো. মোস্তাফিজুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বেসরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব …