
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর রামপুরায় শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনায় গ্রেপ্তার শিহাব হোসেন (১৯) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আব্দুল্লাহ আত্মহত্যা করার আগেই আসামি শিহাব মাদ্রাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। পরে রামপুরা থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পাবনার বেড়া উপজেলার খাকছাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আসামির রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।তিনি বলেন, এরা হচ্ছে সমাজ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সম্মানহানি করে। এ জন্য এদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। এখন মাদরাসায় এ ঘটনা প্রায়ই হয়। হুজুরগুলো বাচ্চাদের নিয়ে হাত-পা টেপায়।একসময়ে তারা বাচ্চাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আজকের ঘটনা আত্মহত্যা প্ররোচনা না, এটা মূলত হত্যা। এজন্য এর কঠোর শাস্তি হোক। তবে এ সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী নিহত শিশুটির ওপর মৃত্যুর পূর্বে অস্বাভাবিক যৌনাচার (বলাৎকার) করা হয়েছিল এবং সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামির সরাসরি সম্পৃক্ততা যাচাই, ভিকটিমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং মাদরাসার অন্য কোনো সহযোগী এই ঘটনার পেছনে জড়িত রয়েছে কি না, তা বের করতেই আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।এর আগে গতকাল বুধবার নিহত আব্দুল্লাহর মা টুকু আরা খাতুন বাদী হয়ে শিহাব হোসেন ও অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে রাত ১০টার দিকে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী সি-ব্লকের আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসায় মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের আলামত দেখতে পান তদন্ত কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, শিহাব হোসেন নামে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদরাসার আরো চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারের অভিযোগ ছিল। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
