
অনলাইন ডেস্ক: ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে জান্নাতুল মাওয়া তিন্নি (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার (১৬ মে) দুপুরে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের লবি ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জান্নাতুল মাওয়া তিন্নি ওই এলাকার প্রবাসী ইসরাফিল হোসেন হৃদয়ের স্ত্রী। তিনি সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের আমতলী পাটোয়ারী পুকুরপাড় ফরায়েজী বাড়ির বাসিন্দা আবদুল ছাত্তারের মেয়ে।এদিকে নিহতের বাবা আব্দুল সাত্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের জা কমলা আক্তার তাকে হত্যা করে, ঘটনার সময় আমি মেয়ের স্বামীর ঘরেই ছিলাম, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। ঘটনার দিন জান্নাতুল মাওয়া শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর তার আপন জা এর সঙ্গে গ্যাস বিল ও বিদ্যুত বিল নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় এর কিছুক্ষণ পর আমার মেয়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং শয়নকক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে সবাইকে ডেকে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করি হাসপাতালে নিয়ে যেই।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে বাবা আবদুল ছাত্তার মেয়ে তিন্নিকে সঙ্গে নিয়ে জামাতার বাড়িতে আসেন। সেখানে অবস্থানকালে ঘরের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধ করা নিয়ে বাবার সাথে তিন্নির কথাকাটাকাটি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তর্কাতর্কির একপর্যায়ে বাবা ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়েকে গালমন্দ করেন। এর কিছুক্ষণ পর তিন্নির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং শয়নকক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে সন্দেহ হয়। পরে বাবা দরজার ফাঁক দিয়ে মেয়েকে আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ির লোকজনকে ডেকে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিন্নির জা কমলা আক্তার সকাল থেকেই সন্তানকে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে ছিলেন। ঘটনার সময় ঘরে কেবল তিন্নি ও তার বাবা আবদুল ছাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, এর আগে ২০২৩ সালে জান্নাতুল মাওয়া তিন্নির নিজের বোনের দেবরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই সংসারের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ২০২৫ সালে ইলাশপুর এলাকার বাসিন্দা ইসরাফিল হোসেন হৃদয়ের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।
খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশ এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।
ফেনী মডেল থানা পুলিশ জানায়, নিহত গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
