শিরোনাম

পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স : দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এজিএম মনিরুল হাসান সরকার। তিনি বলেন, নিরপরাধ ব্যক্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে না যান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কনফারেন্সে মামলার তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, সাক্ষী হাজির, জখমি সনদ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং আদালতের নিরাপত্তাসহ ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে সিএমএম এজিএম মনিরুল হাসান সরকার বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির সর্বশেষ সংশোধনী যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। তদন্তকাজে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা করা বাধ্যতামূলক। কেউ অসহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি আরও বলেন, যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে, তা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করাই দেশপ্রেম। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে পারস্পরিক সমন্বয় ও জবাবদিহির ভিত্তিতে আইনের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
কনফারেন্সের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ফোকাল পারসন মো. মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ সময় উপস্থাপনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেসির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মামলার সংখ্যা ও বিচারকের সংখ্যা তুলে ধরা হয়। মামলার সংখ্যা বাড়লেও বিচারকের সংখ্যা না বাড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। পাশাপাশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনী নিয়ে আরেকটি উপস্থাপনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন। এতে আসামি আটক থেকে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা পর্যন্ত সংশোধিত আইনের প্রয়োগ ও অনুসরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
কনফারেন্সে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান, উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. হাসান ইকবাল চৌধুরী এবং আনসার ও ভিডিপির পরিচালক মো. আমিন উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম মহানগরের ১৬ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কাজী সাইফুল আলম, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদ হোসাইনসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা কনফারেন্সে অংশ নেন।

Check Also

চট্টগ্রামে চুরি হওয়া ২ মাসের শিশু উদ্ধার, চোরচক্রের ২ সদস্য ধরা

 নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানাধীন এলাকা থেকে চুরি হওয়া দুই মাস বয়সী শিশু মোহাম্মদ হোসাইনকে …