
অনলাইন ডেস্ক: র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসীরা দুর্গম ও ভাঙা যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছে। ‘আমরা যখন রোববার (২৪ মে) রাতে ওখানে ঢুকেছি, তখন দেখেছি রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা হয়েছে।ফলে আমাদের যানবাহন এগিয়ে যেতে পারেনি। সদস্যদের হেঁটে যেতে হয়েছে।এতে সময় লেগেছে এবং সেই সুযোগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে’।সোমবার (২৫ মে) সকালে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জঙ্গল সলিমপুর থেকে হামলার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০ থেকে ২৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সম্পৃক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে এবং নিরীহ ব্যক্তিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
র্যাব, জেলা পুলিশ, এপিবিএন ও রেঞ্জ রিজার্ভ পুলিশ সদস্যরা এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।হামলার সময় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ সশস্ত্র সন্ত্রাসী অংশ নেয় বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের ক্যাম্পের সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। তারা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কোনো সদস্য নিহত হয়নি। তবে ইট-পাটকেল ও ককটেল বিস্ফোরণে কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। হামলায় সন্ত্রাসীরা এলএমজি সদৃশ অস্ত্র, দেশে তৈরি অস্ত্র, রাইফেল ও ককটেল ব্যবহার করেছে। র্যাব সদস্য নিখোঁজ হওয়ার গুঞ্জনও নাকচ করে দেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, ইয়াসিন ও তার সহযোগীরা আলীনগর সংলগ্ন পাহাড়ি ও জঙ্গলে অবস্থান পরিবর্তন করে লুকিয়ে থাকে। এছাড়া বাহিনী পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তারা আগেই সরে যাওয়ার সুযোগ পায়। মেইন রোড থেকে আলীনগর পর্যন্ত পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগে। ভাঙা রাস্তার কারণে দ্রুত অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার অনেক সহজ হবে।
সন্ত্রাসীদের কাছে আগে থেকেই অভিযানের খবর পৌঁছে যায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে কেউ তথ্য দিচ্ছে- এমন প্রমাণ নেই। মূল সড়কের প্রবেশমুখে অবস্থান করা লোকজন মোবাইল ফোনে তথ্য পৌঁছে দেয়। র্যাব শতভাগ দায়িত্ব পালন করছে। হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিন্তু পরে অনেকেই জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। দ্রুত বিচার কার্যকর হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
