শিরোনাম
Home / বিশ্ব / অস্ট্রেলিয়ায় শেষ বিদায় উর্বির! কাঁদল বাংলাদেশি কমিউনিটি

অস্ট্রেলিয়ায় শেষ বিদায় উর্বির! কাঁদল বাংলাদেশি কমিউনিটি

অনরাইন ডেস্ক: জুলাইয়ের বিয়ের স্বপ্ন, ভাইয়ের ভিসার অপেক্ষা, নতুন জীবনের সব আয়োজন সবকিছু থামিয়ে দিয়ে অবশেষে শেষ বিদায় দেয়া হলো নওশিন নাওয়ার উর্বিকে। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন এর একটি মসজিদে প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে সেই কান্নার ভার বহন করে এখন উর্বি ফিরছেন নরসিংদীর সেই চেনা মাটির কাছে চিরতরে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের কীসবোরো মসজিদে অনুষ্ঠিত হলো মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে ঝরে যাওয়া এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জানাজা। সহপাঠী, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং অসংখ্য বিদেশি মুসলিম ভাই-বোনেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শেষবারের মতো দাঁড়ালেন উর্বির জন্য।চোখে জল, বুকে ভার এক অপরিচিত দেশের মসজিদে বাংলাদেশের একটি মেয়ের জানাজা পড়া হলো।
আগামীকাল শুক্রবার রাত ১১টায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে উর্বির নিথর দেহ রওনা হবে দেশের পথে। শনিবার নরসিংদীর গ্রামের বাড়িতে আরেকটি জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন উর্বি। যে মাটিতে জন্ম, সেই মাটিতেই শেষ ঠিকানা।
সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন উর্বির বাগদত্তা সিয়াম আহমেদ সরকার। ঢাকার নয়াপল্টনের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির সরকারের পুত্র সিয়াম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিন্তু উর্বি চলে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। আগামী জুলাই মাসে দেশে গিয়ে বিয়ে করার কথা ছিল আমাদের।কিন্তু তা আর হলো না।’সিয়াম আরো জানান, উর্বি তার ছোট ভাইয়ের স্টুডেন্ট ভিসার জন্যও আবেদন করেছিলেন কত আশা কত পরিকল্পনা ছিল সামনে। সব এখন শুধুই স্মৃতি।
উর্বির মরদেহ দেশে পাঠাতে খরচ হচ্ছে ১৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ইতোমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি কমিউনিটির সহযোগিতায় প্রায় ১০ হাজার ডলার সংগ্রহ হয়েছে।বাকি অর্থ অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি কমিউনিটি হেল্প সেন্টারের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের অ্যাডমিন সিএইচ মাহবুবুর রহমান প্রান্ত।
প্রান্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় যেসব শিক্ষার্থী আসছেন বা পড়াশোনা করছেন, তাদের সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি ইনস্যুরেন্সে অবশ্যই হাসপাতাল কভার ও মৃতদেহ প্রত্যাবাসনের সুবিধা যুক্ত করুন। কেউ অসুস্থ হলে বা যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাবতীয় খরচ যেন ইনস্যুরেন্স বহন করে। বাংলাদেশি ও বিদেশি কমিউনিটির সহযোগিতায় আমরা উর্বিকে দেশে পাঠাতে পারছি। সবাই পাশে থাকলে আমাদের সহযোগিতার হাত আরো প্রসারিত হবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে উর্বিকে মেলবোর্নের রয়্যাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছেই তিনি কোমায় চলে যান। চিকিৎসকরা মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত করেন এবং চিকিৎসাধীন গত গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাকে ক্লিনিক্যালি মৃত ঘোষণা করা হয়। মেলবোর্নে সোশ্যাল সায়েন্সে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত উর্বির বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর।

Check Also

ব্রাজিল সমর্থন করতে এখন লজ্জা লাগে : হিমি

বিনোদন ডেস্ক : ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। অভিনয় আর মিষ্টি হাসি দিয়ে …