
বাঁশখালী প্রতিনিধি: ঘরের ভেতর এখনো থইথই পানি। কাদামাখা উঠোনে পড়ে আছে মাটির দেয়ালের স্তূপ। যে চুলায় প্রতিদিন ধোঁয়া উঠত, সেখানে পাঁচ দিন ধরে আগুন জ্বলেনি। চোখে-মুখে ক্লান্তি, কণ্ঠে শুধু বেঁচে থাকার আকুতি শেলি কর্মকারের। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরি ইউনিয়নের কুকদণ্ডী গ্রাম যেন সময়ের বাইরে আটকে গেছে। কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি এই গ্রামের শত শত পরিবার।
বেশিরভাগ মাটির ঘর ধসে পড়েছে, অনেক ঘর বসবাসের অনুপযোগী। ঘর ছেড়ে অন্যের বাড়ি কিংবা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোর কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বেঁচে থাকার খাবার জুটবে কীভাবে।
শেলি বলেন, এক পাঁচদিন ধরে পানির মধ্যে আছি। মঙ্গলবার রাতে ঘরে পানি ওঠে, বুধবার সকাল থেকে ঘর ভাঙতে শুরু করে। ছোট বাচ্চাকে নিয়ে বের হয়ে আসি। চার দিন ধরে রান্না করতে পারিনি। যে যা দিচ্ছে, তাই খেয়ে আছি। কখনো বিস্কুট, কখনো দুইজন মিলে একমুঠো ছিড়া এই খেয়েই দিন কাটছে।
তার কণ্ঠ আরও ভারী হয়ে আসে যখন ত্রাণের প্রসঙ্গ ওঠে। তিনি বলেন, আমি একমুঠো চাল পর্যন্ত পাই নাই। এখান থেকে বের হতেও পারছি না। কোথায় গিয়ে ত্রাণ নেব? এখানে কেউ আসেনি, কিছুই দেয়নি।
শেলি একা নন। তার মতো একই অসহায়ত্বে দিন কাটছে কুকদণ্ডীর কয়েকশ পরিবারের। অনেক পরিবার কয়েক দিন ধরে একই কাপড় পরে আছেন। ঘর ছাড়ার সময় প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগই পাননি তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা তৃষ্ণা দাশের কণ্ঠেও হতাশা। তিনি জানান, ঘরে কিছুই নেই। খাবার নেই, শুকনো কাপড় নেই। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। চারদিকে শুধু পানি আর ভাঙা ঘর। কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি, কোনো ত্রাণও পাইনি। এখন পানি নামলেও কোথায় থাকব জানি না। আমাদের বেশিরভাগ মাটির ঘর ভেঙে গেছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রধান সড়কের পাশেই কুকদণ্ডী গ্রামের অবস্থান। কিন্তু কয়েক দিন পার হলেও ভেতরের পানিবন্দি পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণ পৌঁছেনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দুর্যোগের পর থেকে এলাকায় দেখা যায়নি বলে দাবি তাদের। ফলে ক্ষুধা, অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা নিয়েই দিন কাটছে মানুষের।
খাবারের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। অধিকাংশ নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশুদের দুধ, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাবও প্রকট হয়ে উঠেছে। পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়লেও চিকিৎসাসেবাও সহজলভ্য নয়।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
