
আমি কবিতায় ২৬-এর নির্লজ্জ বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কথা বলছি…
কবি এহছানুল আজিম লিটন
বৃষ্টি তুমি এলে! আকাশ জুড়ে ভয়াল মেঘের অন্ধকার নামিয়ে চট্টলার জমিনে জল মৃত্যু নিয়ে এলে।
তুমি এলে তো এলে, নির্লজ্জের মতো থেকে গেলে টানা নয় দিন-আজ নবম রাত-
বৃষ্টির তোমার বৈরীতার কাছে
সকল প্রতিরোধ ব্যবস্থা কুপোকাত।
তিন নাম্বার সিগনাল চলছে
কর্ণফুলী ফুঁসছে, বিদ্যুৎ চমকিয়ে আকাশ গুড়ুম,গুড়ুম,শব্দ হাঁকছে ।
ডুবেছে ক্ষেতের ফসল, ঘরবাড়ি,
বিন্দু ঠাঁই, নাই মাঠে
জাহাজ ফেলেছে নোঙ্গর
মাঝি মাল্লা নৌকা বাঁধিছে ঘাটে-
দুয়ারে দাঁড়িয়ে দূর পানে চেয়ে আছে চাচি,রাত বেড়েছে ফিরেনি চাচা, এখনো নাকি হাটে।
বন্দর, পতেঙ্গা,হালিশহর,শান্তিবাগ রঙ্গিপাড়া, মুহুরী পাড়া, দাইয়াপাড়া আগ্রাবাদ প্রবর্তকের মোড়, বদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুর
কোমর পানিতে ভরপুর !
পাঠশালা উপকূল আর নগর,নিম্নাঞ্চল, ভারী বর্ষণে বর্ষিলে সবই-
টানা নয় দিন নয় রাত পার হয়ে গেল চট্টলার আকাশে উঠিল না রবি।
আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রহীন মানুষের নিদারুণ হাহাকার-
একই ছাদের নিচে
মানুষ আর গবাদি পশুর অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন বোবা চিৎকার।
মন্ত্রী এমপি সমাজপতি সামাজিক কর্মীরা নেমেছে মাঠে ধরেছে হাল
সকলের সাধ্যমত বিতরণ করিছে শুকনো খাওয়ার আলু,ডাল, চাল ।
সার্বক্ষণিক তদারকিতে চট্টল মেয়র, সিডিএর চেয়ারম্যান সাথে কত সাইট ম্যান ,তবু বৈরী প্রকৃতি মানিতে চায় না হার-
ইতিহাসের এই রেকর্ড ভাঙ্গা ১১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি ও বন্যার তাণ্ডব রুখিবে সাধ্য কার।
বৈরী হাওয়া বইছে,ঝড়ের তান্ডব এখনো চলছে, রাক্ষসী পানি টেনে নিয়ে গেছে দুঃখিনীর ঘরের চাল-
ঘরে ঘরে হাঁটু পানি, নিচ তলার মানুষের দুর্দশা পানির নিচে গৃহস্থালি মালামাল
নগরবাসীর দুঃখ ৩৬ টি জলাবদ্ধতার জনক ঝুঁকিপূর্ণ খাল।
বর্ষার এমনও জলাবদ্ধতার দিনে নগরবাসী নালায় পড়ে ডুবে মরে কে নিবে তার দায় –
নালায় পড়ে ডুবে মরার বিচার চাওয়া কি নাগরিকের শোভা পায়!
নদী ও পাহাড় ঘেরা অপরূপ চট্টলার সকল ঐতিহ্য দিনে দিনে হয়েছে ম্লান
পাহাড় কাটার মহা উৎসবে এই বর্ষায় পাহাড়ধসে শিশু কিশোর ভাই-বোন সহ গেল কত স্বজনের প্রাণ।
বৃষ্টি তুমি এলে যুগে যুগে
বারে বারে এলে ডুবালে
মোদের প্রাচ্যের রানী চট্টলা
মোরা বারে বারে করেছি তার মূল্যায়ন-
সেই মূল্যায়নের মূলে নগর রক্ষার কোনো চয়ন হলো না বাস্তবায়ন!
প্রায় এক যুগ শেষ হলো
হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলো-
হলো না ৩৬ খাল খননের পূর্ণ বাস্তবায়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ।
এখনো অঝোর ধারায় ভারি বৃষ্টি ঝরছে নগরজুড়ে-
ক’দিন ধরে কারো কারো ঘরে হয়নি রান্না
কোথাও কোথাও ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না।
বাড়ছে ভয়, ভীতি, উৎকণ্ঠা-
এমন বৃষ্টি আর কত দিন চলবে
মনে জাগে শঙ্কা –
পাঠশালায় পড়েনি ক’দিন দপ্তরির ঘন্টা।
দিকে দিকে ফসলের মাঠ ডোবা কৃষকের কান্না
আশ্রয়হীন পশু,পাখিদের নিঃশব্দ আর্তনাদ, নেমেছে বন্যা ।
অফিস, আদালত হাট,বাজার, দোকান,পাঠ, পর্যটকের ট্রেন
নগরী বা দূরপাল্লার গাড়ির গতি
থেমে গিয়েছে সবই-
দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙ্গে দেখি ৯১এর জলোচ্ছ্বাসের ছবি।
ঘরে ঘরে আল্লাহর নাম দোয়া মোনাজাত করি সবাই
ক্ষমা কর দয়া কর, জান-মাল রক্ষা করো প্রভু –
থামাও বৃষ্টি জোয়ার, নামাও ভাটি
সরিয়ে নাও আকাশের ভয়াল কালো মেঘ,বৃষ্টি উঠিয়ে দাও রবি।
প্রিয় আজি মোরে ফুল নাহি দিও
তুলে রাখ শ্রাবণের গান
নিজেকে সঁপে দাও বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে সঁপে মনো প্রাণ –
গাইতে হয় যদি এসো কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে ধরি, আত্ম মানবতার গান।
গোলাপের সুবাস আর বৃষ্টির শব্দ শুনে মুগ্ধ হওয়ার দিন নহে আজ প্রিয়তম!
সাড়ে সাত লক্ষ মানুষের
বিপন্ন জীবন রক্ষা করিতে রবি তুমি নামো-
ওহে নির্লজ্জ বৃষ্টি এবার তুমি থামো।
নাথামো যদি থামবে না কবিতা
এই কলম লড়বে
বৃষ্টি তুমি সত্যি করে কি বলবে
চট্টলবাসীর এই দুর্দশা আর কতদিন চলবে।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
