
বিশেষ প্রতিনিধি :শ্যালিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে পরবর্তীতে শ্যালিকাকে জিম্মির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে ফেনী মডেল থানায় এএসআই পদে কর্মরত আছেন। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার এমন জঘন্যতম আচরণে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে সহোদর ২ বোনের। প্রতিকার চাওয়ার চেষ্টা করলে দেওয়া হয় মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানাধীন জাগিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা মমতাজ মিয়ার ছেলে তৎকালীন পুলিশ কনস্টেবল আব্দুস শুক্কুরের সাথে পার্শ্ববর্তী এলাকা ফকিরাঘোনার হতদরিদ্র আমানুল হকের মেয়ে নাহিদা আক্তারের বিয়ে ২০০৮ সালে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভালোই কাটছিলো তাদের সংসার জীবন। কিন্তু ২০১৬ সালের প্রথম দিকে ২ সন্তানের জনক আব্দুস শুক্কুর পরনারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। এএসআই পদে পদোন্নতি পেয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া থানায় দায়িত্ব পালনের সময় ২০১৭ সালে আব্দুস শুক্কুরের স্ত্রী নাহিদা ৩য় সন্তানের মা হতে চললে তার সেবাযত্নের জন্য পটিয়া পশু হাসপাতাল সংলগ্ন ভাড়া বাসায় ১৩ বছর বয়সী কিশোরী শ্যালিকা শিমলাকে (ছদ্মনাম) নিয়ে আসেন। কিন্তু অসুস্থ বোনের পাশে দাঁড়াতে এসে পুলিশ ভগ্নিপতির লালসার শিকার হতে হয় এই কিশোরীকে । আব্দুস শুক্কুর শিমলাকে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে তার সাথে কৌশলে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করে গোপনে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে তাকে জিম্মি দশায় রেখে নিয়মিত শারিরীক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। নবজাত শিশু কন্যা আফিসা’র বয়স দেড় মাস হলে স্ত্রীকে বাপের বাড়ীতে পাঠিয়ে তালাকনামা প্রেরণ করেন তিনি। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রায় ৩ বছর ধরে শ্যালিকার সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে শ্যালিকা শিমলাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে এমন একজন চরিত্রহীন লোকের সাথে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এই লম্পট পুলিশ কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তকে বিয়ে না করলে আর কারো সাথে বিয়ে হতে দিবেন না কিংবা বিয়ে হলে তার নিকট সংরক্ষিত শারীরিক মিলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে সংসার ভেঙ্গে দিবেন।
অপরদিকে ৩ সন্তান নিয়ে দু’বেলা দু,মুঠো খেতে না পেরে ২০১৮ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন তার সাবেক স্ত্রী নাহিদা। আদালতের নির্দেশে ৩ সন্তান নাফিসা ,আলিফ এবং আফিসাকে ভরণপোষণের নির্দেশ দিলেও আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস শুক্কুর। স্কুল পড়ুয়া ৩ সন্তানের ভরণপোষণে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে নাহিদাকে। তাছাড়া একদিকে ৩ সন্তানসহ স্বামীহারা বোনের দারিদ্র্যতার আর্তনাদ অন্যদিকে নিজের জীবনের চরম অনিশ্চয়তায় দিশেহারা শিমলা(ছদ্মনাম)।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিমলা(ছদ্মনাম) বলেন, কিশোর জীবনে তিনি এরকম একজন লম্পটের ফাঁদে পড়ে নিজের জীবনের সর্বনাশা ডেকে আনবো কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, অল্প বয়সে মনের অজান্তে ভুল করে এই ভুলের মাশুল এইভাবে দিতে হবে কখনো ভাবতে পারনি। তিনি আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে আমার বিয়ে হতে দিচ্ছে না। আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারতেছি না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপির কাছে এই মুখোশধারী লম্পট পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি করছি। বিচার না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া কোন রাস্তা খোলা নেই বলেও জানান তিনি।
আব্দুস শুক্কুরের সাবেক স্ত্রী নাহিদা বলেন, আমার অবুঝ বোনকে অচেতন করে শারীরিক সম্পর্ক করে ভিডিও ধারণ করে তার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে এই লম্পট। একদিকে ৩ সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে চোখের সামনে ছোট বোনের জীবনটা নরক হয়ে যাচ্ছে। নিজের ৩টা সন্তান, তাদেরকে তো আর রাস্তায় ছেড়ে দিতে পারি না, তাই মানুষের সাহায্য-সহযোগীতার উপর নির্ভর করে জীবনযুদ্ধে টিকে আছি। এই লম্পট আব্দুস শুক্কুর প্রতিবেশীদেরকে বলতেছে আমার বোনকে তার সাথে বিয়ে দিতে হবে না হয় ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। অন্যতায় ওর বিয়ে হতে দিবে না এবং তার অশালীন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিবে। এই অসহায় অবস্থায় আমরা এরকম জঘন্য ও বিকৃত মানসিকতার এই নারীলিপ্সু আব্দুল শুক্কুরের বিচার চাই।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল শুক্কুর হুমকী দিয়ে বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা বলার এখতিয়ার সাংবাদিকের নেই। কোন প্রকার নিউজ করলে দেখে নেওয়ার হুমকীও দেন তিনি।
জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, আমার থানায় কর্মরত এএসআই আব্দুল শুক্কুরের বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হবে।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
