
অনলাইন ডেস্ক: অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা চীনে পাচারের অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিকসহ আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া রোকন উদ্দিন নামের এক আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই রেজাউল করিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন এমএ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), জেমস ঝু (৪৩), মো. কাউসার হোসেন (২৪) ও মো. আব্দুল-কারিম (২৮)। রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল বুধবার তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার টিম দক্ষিণের এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তিনি রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট পরিমল পাল, হেলাল উদ্দিন, সবুজ শেখসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন চান। প্রয়োজনে তাদের কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।রোকন উদ্দিনের আইনজীবী দাবি করেন, তিনি (রোকন) ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, গিলতেও পারেন না।পরে আদালত ৮ আসামির দুই দিনের রিমান্ড এবং রোকনকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১ মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। এরই অংশ হিসেবে আমাদের সাইবার টিম রাজধানী উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ছয় চীনা সদস্যসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে।’
তিনি বলেন, গতকাল বুধবার সকালে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমটি নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ/নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করে।
এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নং সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউসার, করিম ও রোকনকে এবং তুরাগ থানাধীন রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে চীনা নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের কাছে থেকে অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার অনেক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কাছে থেকে ৩টি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, ১টি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, ১টি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট এবং এনআইডি ও ১টি টয়োটা মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের সাইবার টিমের এসআই সুব্রত দাশ রমনা মডেল থানায় মামলা করেন।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
