শিরোনাম

মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজে গাফিলতি হলে দায় তদারককারীদের : মেয়র ডা. শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলা এবং চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজে গাফিলতি করলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার জোনাল অফিসার, সুপারিনটেনডেন্ট ও ওয়ার্ড সুপারভাইজারদের নিতে হবে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় মেয়র এসব কথা বলেন।ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত তিন মাসব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বয় করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হচ্ছে বলে জানান মেয়র।
থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে জমে থাকা পানি, বিশেষ করে ডাবের খোসা অপসারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আজ সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকায় গিয়ে আমি নিজেই ডাবের খোসায় প্রচুর এডিস মশার লার্ভা দেখেছি। ডাবের মিষ্টি পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশলে সেখানে এডিস মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। তাই এ বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’
নগরীতে বর্তমানে কাজ করা ৩ হাজার ২০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দায়িত্ব তদারককারীদের হাতে ন্যস্ত করে মেয়র বলেন, ‘আমরা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে নয়, সরাসরি আপনাদের (তদারককারী) সঙ্গে কথা বলব। কোনো গাফিলতি হলে আপনাদেরই দায়ী করা হবে।’
ড্রেন পরিষ্কার করার পর পাশে স্তূপ করে রাখা ময়লা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।
শুধু নিজেদের নির্ধারিত কাজ নয়, নগরীর রাস্তাঘাটের খানাখন্দ, ভাঙা স্ল্যাব বা ওয়াসার পাইপলাইনের লিকেজ থেকে পানি জমার মতো বিষয়গুলো নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রকৌশল বিভাগকে জানানোর নির্দেশ দেন মেয়র।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ওয়াসা বা অন্য সংস্থা আলাদা হলেও দিন শেষে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সিটি করপোরেশনকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এই শহর সবার, তাই দায়িত্ববোধও সবার থাকা উচিত।
সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন প্রসঙ্গেও কথা বলেন মেয়র। সড়ক বিভাজকে (মিড আইল্যান্ড) রোপণ করা ফুলের চারা ও ঔষধি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং পানি দেওয়া নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। এসব স্থানে ভাসমান মানুষ বা মাদকাসক্তরা যেন আস্তানা গড়তে না পারে, সে বিষয়েও কর্মকর্তাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়।
নাগরিকদের মানসিক প্রশান্তির দিকটি তুলে ধরে মেয়র বলেছেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে বেরিয়ে মানুষ যখন ফুটপাতে ময়লার স্তূপ দেখে, তখন তার মন ভালো থাকে না। আমরা চাই, সকালে উঠে মানুষ যেন একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘শুভ সকাল’ বলতে পারে। এই পরিবেশ তৈরি করাটাই আমাদের মূল কর্তব্য।’
এছাড়া, সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে সিবিএ’র অধীনে থাকা সব সাব-কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন মেয়র। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যেকোনো নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে ওয়াকিটকি বা যোগাযোগের মাধ্যমগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখারও কড়া নির্দেশ দেন তিনি।

Check Also

ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

পটিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।রোববার …