
অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে নজর সবার। তবে শি-ট্রাম্পের বৈঠকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।অন্যদিকে আজ বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠকের দিকে বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ বাড়ায় তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।বাণিজ্য ইস্যুর পাশাপাশি আশা করা হচ্ছে, ট্রাম্প চীনকে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শেষ করার একটি চুক্তিতে রাজি করাতে ভূমিকা রাখতে বলবেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শি চিনপিং তার দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার ইরানের ওপর বড় ধরনের চাপ দিতে কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ২৬ সেন্ট বা ০.২৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৫.৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচারস ৩২ সেন্ট বা ০.৩২ শতাংশ বেড়ে ১০১.৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।এর আগের দিন বুধবার উভয় তেল বেঞ্চমার্কেরই দাম কমেছিল। বিনিয়োগকারীরা তখন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, কারণ উচ্চ তেলের দাম মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরো বাড়াতে পারে।
সেই দিনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি কমে, আর ডব্লিউটিআই ১ ডলারের বেশি কমে যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ওই আলোচনায় তাদের ভঙ্গুর বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি, ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির মতো বিষয়গুলো ছিল আলোচ্যসূচিতে।বৃহস্পতিবার এক নোটে আইএনজির বিশ্লেষকরা বলেছেন, তেলের বাজার এখন ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ অবস্থায় রয়েছে। তাদের মতে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন আলোচনায় ইতিবাচক ফল আসবে, এমন আশা বাজারে কিছুটা বেশি হতে পারে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, কার্যত বন্ধ রয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে চীনের সাহায্য প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না, তবে তিনি এই ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় সংঘাতের সমাধানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সহায়তা চাইবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, প্রণালিটি পুনরায় খুলতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সীমিত বিকল্প থাকবে এবং সেক্ষেত্রে আবারো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা এই অঞ্চল থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির জন্য ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তিও করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর বুধবার ইরাকের ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি চীনা সুপারট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাত্রা করে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রণালিটি পার হওয়া মাত্র তৃতীয় তেলবাহী জাহাজ এটি।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনে যুদ্ধ বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এবং দ্রুত গতিতে তেলের মজুত কমে যাচ্ছে। ফলে এ বছর বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হবে। এই পূর্বাভাস আগের তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে আগে সরবরাহে উদ্বৃত্ত থাকার কথা বলা হয়েছিল।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
