
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামে কোরবানির প্রস্তুতির ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। পশু কেনার পাশাপাশি কোরবানির অন্যতম প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দা, চাপাতি, ছুরি ও বটি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কামাররা। চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন কামারপাড়ায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে আগুন, হাতুড়ি আর লোহার অবিরাম কর্মযজ্ঞ।
নগরের ফিরিঙ্গিবাজার, জেল রোড, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কামারদের দোকানগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দোকানের সামনে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে নানা আকারের দা, চাপাতি, ছুরি ও বটি। ভেতরে জ্বলন্ত আগুনে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন সরঞ্জাম। আর চারপাশে হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখরিত পুরো এলাকা।
কামাররা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদের আগের কয়েক সপ্তাহই তাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরি-বটি ধার দেওয়ার কাজও চলছে সমানতালে।
বিশ্বকলোনির কারিগর শিমুল কর্মকার বলেন, ‘প্রায় ৩৬ বছর ধরে এই কাজ করছি। সারা বছরের মধ্যে ঈদের মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ থাকে। ঈদের আগে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ে। এবার নতুন দা-ছুরি কেনার চেয়ে পুরোনো সরঞ্জাম ঝালাই ও ধার করানোর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।’
বেড়েছে লোহার দাম, বেড়েছে সরঞ্জামের মূল্যও
কারিগররা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার লোহার দাম কিছুটা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কোরবানির সরঞ্জামের বাজারেও। বর্তমানে আকার ও ওজনভেদে দা, চাপাতি, বটি ও ধামা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়। যেখানে গত বছর একই ধরনের পণ্য প্রায় ৬০০ টাকায় পাওয়া যেত। ছোট ছুরির দাম ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং বড় ছুরির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। পশুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত বিশেষ ছুরি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।
তবে দাম কিছুটা বাড়লেও ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। অনেকেই মনে করেন, বাজারের তৈরি রেডিমেড সরঞ্জামের তুলনায় কামারদের হাতে তৈরি দা-ছুরি অনেক বেশি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী।
কামারপাড়াগুলো ঘুরে জানা গেছে, অনেকেই এখনো কোরবানির পশু কেনেননি। তবে ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগেভাগেই দা-ছুরি ধার করিয়ে নিচ্ছেন।
চৌমুহনি এলাকার বাসিন্দা নবী বলেন, ‘ঈদের দু’দিন আগে গরু কেনার পরিকল্পনা আছে। তাই আগে থেকেই দা–ছুরি ধার করিয়ে নিচ্ছি, যাতে পরে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়।’
জেল রোডের কারিগর সরফরাজ বলেন, ‘ঈদের আগের রাত পর্যন্ত দোকানে কাজের চাপ থাকবে। নতুন সরঞ্জাম বিক্রির পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জাম ধার দেওয়া ও মেরামতের কাজও চলবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।’
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
