
অনলাইন ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারে বিভিন্ন পশুর হাট জমে উঠেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।এসব হাটে চলছে দেশি গরুর মেলা। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মৌলভীবাজারে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮৪টি। এর মধ্যে রয়েছে ৩৯ হাজার ৪৮১টি গরু, এক হাজার ৪৪৬টি মহিষ, ৩০ হাজার ৮২২টি ছাগল এবং দুই হাজার ৮৩৫টি ভেড়া। অথচ জেলার মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২টি পশু।ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেও অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ছোট ও মাঝারি গরুর সামনে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। শমশেরনগর পশুর হাটে গরু কিনতে আসা সিদ্দিকুর রহমান সাদেক বলেন, ‘প্রথমে একটি গরুর দাম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে দরদাম করে ৯৫ হাজার টাকায় কিনেছি।বাজারমূল্য অনুযায়ী এটি প্রায় ৯০ হাজার টাকার মতো হওয়া উচিত ছিল।’ক্রেতাদের মতে, গত বছরের তুলনায় বাজার কিছুটা সহনীয় হলেও এখনো বিক্রেতারা বাড়তি দাম চাচ্ছেন। ফলে অনেকেই শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে দাম আরো কমে।
অন্যদিকে খামারিদের দাবি, গত এক বছরে গরুর খাবার, ভুষি, খৈল, খড় ও ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে পশুপালনে ব্যয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।ফলে কম দামে বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে মূলধন ফেরত পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।স্থানীয় খামারি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার খামারে আটটি গরু ছিল। এর মধ্যে দুটি বিক্রি করেছি, কিন্তু আশানুরূপ দাম পাইনি। ক্রেতারা অনেক কম দাম বলছেন। খামার চালাতে এখন খুব কষ্ট হচ্ছে।’
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে দেশি খামারভিত্তিক পশু উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির বাজারে এখন আর আমদানিনির্ভরতা নেই। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় খামারিরা উৎসাহিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ভোক্তারাও তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু পাচ্ছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। প্রতিটি পশুর হাটে মেডিক্যাল টিম রয়েছে, যাতে অসুস্থ বা ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা পশু শনাক্ত করা যায়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায়ও পাঠানো হচ্ছে।’
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘হাটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি টিম, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা নিরাপদ পশু কিনতে পারেন এবং কোরবানির পশু পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় থাকে।’
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
