শিরোনাম
Home / অপরাধ / চট্টগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে আসামির অতিরিক্ত হাজতবাস, জিআরও এর বিচার দাবি ভুক্তভোগীর

চট্টগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে আসামির অতিরিক্ত হাজতবাস, জিআরও এর বিচার দাবি ভুক্তভোগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক :চট্টগ্রামে প্রতিপক্ষের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে কারাগারে থাকা এক ব্যক্তির জামিন লাভের পরেও তাকে কারাগারে আটকে রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই জালিয়াতির নায়ক হলেন জিআরও (হাটহাজারী) শাহদিল। উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন্যায় বিচারের দাবীতে ২০/০৪/২০২৬ইং তারিখে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল কবির পেশায় একজন ব্যবসায়ী। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে শ্যালিকা কর্তৃক তার এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হাটহাজারী থানার মামলা নং- ১৮(২) ২৬। অপরদিকে কবির বাদী হয়ে তার শ্যালিকা ও ভাইরা খন্দকার জাহেদ হোসেন রায়হান গংদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় ৯(৩)২৬ নং মামলা দায়ের করেন । উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় গত ১০/০৩/২০২৬ ইং তারিখে কবির এবং রায়হান ও তার স্ত্রী রীমা আক্তারকে পুলিশ গ্রেফতার করলে বিজ্ঞ আদালত CW মূলে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। পরদিন রায়হানের স্ত্রী রীমা আক্তার জামিনে মুক্ত হলেও জামিন না পাওয়ায় কবির এবং রায়হানকে কারাগারেই থাকতে হয়। ১৬/৩/২০২৬ইং তারিখে তাদের উভয়পক্ষের মামলায় উভয় পক্ষের তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত কবিরকে ১ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন এবং তার প্রতিপক্ষের রায়হানকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। রিমান্ড শুনানির আগে জিআরও এএসআই শাহদিল কবিরের কাছে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। দাবীকৃত ঘুষ দিলে তাকে রিমান্ডে না নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। ঘুষ না দিলে উল্টো তার প্রতিপক্ষের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাকে চরম ভোগান্তিতে ফেলার হুমকি দেন। পরবর্তীতে ১৮/৩/২০২৬ইং তারিখে তাকে হাটহাজারী থানায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরেরদিন রিমান্ড শেষে কবিরকে আদালতে নিয়ে আসার সময় ২ নং গেট এলাকায় পুলিশ ভ্যানে জিআরও শাহদিল উঠে আসামীর পাশে বসেন এবং তাকে চরম শিক্ষা দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। একইসাথে কবিরকে বলেন ২০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হলে ঈদের বন্ধের পরদিন অর্থাৎ ২৪/০৩/২০২৬ইং তারিখে তার জামিনের ব্যবস্থা করে দিবেন। এসময় তার প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে আরো ৩ মাস জেল খাটতে হবে বলে হুমকী দেন। পরবর্তীতে ২৫/০৩/২০২৬ ইং তারিখে কবির এবং তার ভাইরা খন্দকার জাহেদ হোসেন রায়হান উভয়ই জামিন পায়। পরের দিন ২৬/০৩/২০২৬ ইং তারিখে রায়হান কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও কবিরকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

মুক্তি না দেওয়ার কারণ হিসেবে কারাগারে কবিরকে জানানো হয় যে, তার বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলায় PW দেয়া আছে, উক্ত PW প্রত্যাহার না করলে কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। পরে ভুক্তভোগীর আইনজীবী যাচাই করে জানতে পারেন সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে তার নিজের দায়েরকৃত হাটহাজারী থানার ৯(৩)২৬ নং মামলায় PW দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে কবিরের স্ত্রী জিআরও এএসআই শাহদিলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি PW প্রত্যাহার করতে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। পরে তিনি ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে উক্ত PW প্রত্যাহার করতে রাজি হন। ২৯/০৩/২০২৬ ইং তারিখে তাকে আবারো হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তিনি তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৮(২)২৬ নং মামলার অর্থাৎ যেই মামলায় তিনি জামিন লাভ করেন সেটার PW প্রত্যাহার করার আদেশ প্রেরণ করেন। সেই আদেশ পেয়ে কারাগারের অফিসে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান যেই মামলায় PW দেওয়া হয়েছে সেই মামলায় PW প্রত্যাহার করতে হবে। পরে জিআরও এএসআই শাহদিল কবিরের স্ত্রীর কাছ থেকে আরো ২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তার দায়েরকৃত ৯(৩)২৬ নং মামলায় PW প্রত্যাহারের আদেশ প্রেরণ করলে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

জানতে চাইলে কয়েকজন বিজ্ঞ আইনজীবী জানান, বাদীর দায়েরকৃত মামলায় PW প্রদানের কোন সুযোগ নেই, এটা নজিরবিহীন। সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে জিআরও এই অনিয়ম করেছেন। কারাগারে প্রেরণকৃত PW/DW ম্যাজিষ্ট্রেটের স্বাক্ষরিত কিনা সেটাও সন্দেহজনক।

ভুক্তভোগী নূরুল কবির বলেন, দূর্নীতিবাজ জিআরও এর জালিয়াতির কারণে কারাগারে আমাকে ৩ দিন বাড়তি থাকতে হয়েছে। আমি কারাগার থেকে বের হয়ে এলাকায় গেলে লোকজন বলাবলি করতেছিলো, আমার প্রতিপক্ষ রায়হান নাকি তাদেরকে জানিয়েছে সে এমন কাজ করেছে আমার দায়েরকৃত মামলায়ও আমাকে জেল খাটতে হয়েছে। এই বিষয় থেকে আমি নিশ্চিত হই যে, জিআরও এএসআই শাহদিল আমার নিকট থেকে প্রথমে অর্থাৎ রিমান্ড শুনানীর দিন দাবীকৃত ঘুষের ৫ হাজার টাকা না পেয়ে আমার প্রতিপক্ষের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আমাকে ইচ্ছেকৃতভাবে হয়রানি করেছেন। আমাকে এভাবে হয়রানি এবং অতিরিক্ত ৩ দিন কারাগারে আটকে রেখে আমার প্রতি যেই অন্যায় করা হয়েছে সেটার বিচার চাই, এই দূর্নীতিবাজ পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

জানতে চাইলে জিআরও শাহদিল নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, তার কোন অনিয়ম কিংবা ভুল-ভ্রান্তি নেই। জেলখানার দায়িত্বরত স্টাফরা টাকা না পেয়ে এমন কাজ করেছেন।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আদালত থেকে PW প্রাপ্ত হওয়ার পর পুনরায় PW প্রত্যাহার করা না হলে আসামি ছাড়ার কোন সুযোগ নেই। কি কারণে PW প্রেরণ করা হয়েছে সেটা বিবেচনার এখতিয়ার কারা কর্তৃপক্ষের না।

Check Also

ন্যাচার কনভেনশনে চট্টগ্রামকে গ্রীন, ক্লিন ও হেলদি সিটিতে রুপান্তরের ঘোষণা চসিক মেয়রের

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ- চট্টগ্রাম মহানগর শাখা কর্তৃক আয়োজিত “ন্যাচার …