
নিজস্ব প্রতিবেদক :চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মহিলাদল নেত্রীর নির্যাতন-নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে এলাকাবাসী। অভিযুক্ত এই নেত্রী আওয়ামী সরকারের আমলে স্বামীসহ ২ ছেলে নিয়ে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও এখন তাদের পুরো পরিবার বনে গেছে বিএনপির নিবেদিত প্রাণ। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে অসহায়দের উপর চালিয়ে যাচ্ছে নানা নির্যাতন-নিপীড়ন। পিছিয়ে নেই দখল-বেদখলের বাণিজ্যেও।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত এই মহিলাদল নেত্রী হলেন শাহনাজ বেগম। যিনি হাটহাজারী থানাধীন ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক। সেকান্দর কলোনিতে স্বামী এবং ২ ছেলে নিয়ে তিনি বসবাস করলেও পাশ্ববর্তী এলাকার সন্দীপ কলোনী, আকবরশাহ কলোনী, ঠান্ডাছড়ি এবং সিলভার ফ্যাক্টরীর পাশে ছোট-বড় অনেক পাহাড় কেটে দখল করে চালিয়ে যাচ্ছে প্লট বাণিজ্য। এসব পাহাড়ের বিপুল পরিমাণ সেগুন গাছ কেটে রাতের আঁধারে বিক্রি করে দেয়। মাটি বিক্রি করেও হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

শাহনাজের বিরুদ্ধে সুদী কারবারির অভিযোগও রয়েছে অনেক। বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে গরীব-অসহায়দেরকে চড়া সুদে ঋণ প্রদান করেন। ঋণের টাকার বিপরীতে খালি চেক-স্ট্যাম্প নিয়ে ঋণ গ্রহীতাদের উপর চালায় চরম নির্যাতন। প্রদানকৃত ঋণের ৪-৫ গুণ টাকা আদায় করতে না পারলে তাদের হাঁস-মুরগি এবং গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে বিক্রি করে দেন।
কেউ তার এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করে। এলাকায় তার স্বামীকে আইনজীবী পরিচয় দিলেও মূলত তার স্বামী হেলাল মোরশেদ একজন মূহুরী। ২ ছেলে শিমুল এবং মাহীন আওয়ামী সরকারের আমলে ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে মায়ের সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও আওয়ামী সরকারের পতনের পর তাদের মা রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপিতে চলে আসার সুবাদে এলাকায় একইভাবে তাদের রামরাজত্ব কায়েমের সুযোগ হাতছাড়া হয়নি। শিমুল এবং মাহিন একটি কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন। যারা এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।
এছাড়া স্থানীয় কতিপয় অসাধু ছাত্রদল ও যুবদল নেতা-কর্মীকে বশে নিয়ে তাদেরকে শাহনাজের অপকর্মের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করছেন। গাছ ও মাটি বিক্রি এবং প্লট বাণিজ্যের একটি অংশ চলে যায় তাদের পকেটে।
সম্প্রতি সেকান্দর কলোনিতে নুরুল কবির নামে একজন ব্যবসায়ীর নিকট থেকে দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে তার সেমিপাকা গোডাউনটি দখলে নিয়ে প্রায় ৩-৪ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় শাহনাজের দলবল। বর্তমানে শাহনাজ উক্ত গোডাউন সংস্কার করে কারো নিকট দখল বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।
জানতে চাইলে শাহনাজ বলেন, পাহাড়ের গাছ বিক্রি এবং পাহাড় কাটার ঘটনা সত্য নয়। সেকান্দর কলোনির পাশে নূরুল কবিরের ঘরটি ছাত্রদল নেতা মোবিনের ভাই প্রীতম দখল করে দিয়েছে।
শাহনাজের বিষয়ে জানতে চাইলে সেকান্দর কলোনির সর্দার বাদশা বলেন, শাহনাজ বেগম নামের বিএনপি করে, কাজে আওয়ামী লীগ। যেই সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারের নাম ভাঙ্গায় অপকর্ম চালানোর জন্য। ১৬ বছর বিএনপির লোকজনকে যেই নির্যাতন করেছে সেটা এলাকাবাসী এখনো ভুলেনি। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
হাটহাজারী উপজেলা মহিলাদল সভাপতি মালা বেগম বলেন, শাহনাজের অপকর্মের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান। তার কোন অপকর্মে সায় দেওয়া হবে না, এসব অপকর্মের দায়ও সংগঠন নিবে না।
হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর মোহাম্মদ বলেন, শাহনাজকে তিনি চিনেন না। তাই তার এসব অপকর্ম নিয়ে তিনি অবগতও না। এই ব্যাপারে মালা বেগম বিস্তারিত বলতে পারবেন।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
