শিরোনাম
Home / অপরাধ / চট্টগ্রামে দেড় ডজন মামলার আসামী ইয়াবা হোসেন আবারো বেপরোয়া

চট্টগ্রামে দেড় ডজন মামলার আসামী ইয়াবা হোসেন আবারো বেপরোয়া

বিশেষ প্রতিনিধি :চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চুরি-ডাকাতি, অপহরণ, জুয়া এবং সিএনজির টোকেন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপকর্মের মূল হোতা আবুল হোসেন প্রকাশ ইয়াবা হোসেন আবারো বেপরোয়া হয়ে ফিরে এসেছেন সেই পুরানো চেহারায়। চান্দগাঁও থানাধীন রাস্তার মাথা এলাকায় তার নেতৃত্বে চলছে জমজমাট মাদক ও জুয়ার আসর।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ আবুল হোসেন রাঙ্গুনিয়া থানাধীন মরিয়ম নগর এলাকার গুড়া মিয়ার বাড়ীর মৃত আব্দুল হাকীমের ছেলে। তিনি পেশায় ছিলেন একজন সিএনজি চালক। পারিবারিক দারিদ্র্যতাকে জয় করতে চট্টগ্রাম শহরে এসে একের পর এক অপরাধে জড়াতে থাকেন। নগরীর প্রবেশদ্বার চান্দগাঁও থানার মোহরা কাপ্তাই রাস্তার মাথার গ্রাম সিএনজির লাইন দখলে নিয়ে শুরু করেন টোকেন বাণিজ্য তথা চাঁদাবাজি। প্রায় ৩ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে মাসে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি করেছিলো তার নেতৃত্বে গঠিত চক্রটি। এই টোকেন বাণিজ্য থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। পরে রাস্তার মাথার রেলবিট সংলগ্ন একটি গ্যারেজে পরিচালনা করতেন মাদক ও জুয়ার আসর। এই আসরে কৌশলে অনেক বিত্তশালী লোককে আটকে রেখে মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের অনেক অভিযোগও রয়েছে।

আওয়ামী লীগের কতিপয় প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থেকে এসব অপকর্ম চালালেও তাকে অপকর্মের জন্য জেলে যেতে হয়েছে বহুবার।তার বিরুদ্ধে চান্দগাঁও, কোতোয়ালি এবং রাউজান থানায় প্রায় ১৭টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশীরভাগই অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদকের। এসবের মধ্যে জুয়ার মামলাও রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর তার টোকেন বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেলে স্বল্প পরিসরে ইয়াবা এবং গাঁজার ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকে। দীর্ঘদিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিলেও ২৩/০১/২০২৬ ইং তারিখে মাদক মামলায় গ্রেফতার হয় হোসেন। পরবর্তীতে জেল থেকে বেরিয়ে এসে এখন নিয়মিত মাদকের হাট বসাচ্ছেন। তার নিয়ন্ত্রিত একটি চক্র বাহির সিগনাল থেকে রাস্তার মাথার মোড় পর্যন্ত রেলবিটে সরাসরি বসে বিক্রি করে ইয়াবা এবং গাঁজা।

পরিচয় প্রকাশ না করে স্থানীয় কয়েকজন লোক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হোসেন অনেকটা কোণঠাসা হয়ে গেলেও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠতেছেন। ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে মাদক বিক্রির হাট। তারা জানান প্রভাবশালী বিএনপি নেতা অর্থাৎ মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক ইকবাল উর রহমান চৌধুরীর ছত্রছায়ায় থেকে হোসেন আবারো বেপরোয়া হওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি পুনরায় রাস্তার মাথার সিএনজি লাইনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন।
তারা জানান, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন এই অবস্থায় কোন বিএনপি নেতার আশীর্বাদ না পেলে সরাসরি এভাবে মাদক ব্যবসা চালানোর কোন সুযোগ নেই।

জানতে চাইলে ৫নং মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক ইকবাল উর রহমান চৌধুরী বলেন, হোসেনকে তিনি চিনেন, সে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার সাথে সম্পৃক্ততার কোন সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন হোসেন বর্তমানে রাস্তার মাথা এলাকায় থাকে না, এখানে তার কোন অস্তিত্বও নেই।

জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, রাস্তার মাথা এলাকায় নিয়মিত মাদক বিক্রি হচ্ছে সেটা তার জানা নেই। মাদক বিক্রির সত্যতা পেলে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Check Also

ন্যাচার কনভেনশনে চট্টগ্রামকে গ্রীন, ক্লিন ও হেলদি সিটিতে রুপান্তরের ঘোষণা চসিক মেয়রের

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ- চট্টগ্রাম মহানগর শাখা কর্তৃক আয়োজিত “ন্যাচার …