শিরোনাম

চট্টগ্রামে দূধর্ষ সন্ত্রাসী অপুর চাঁদাবাজি ও নির্যাতনে অসহায় এক ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাঁচলাইশে ছোট সাজ্জাদের সহযোগী দূধর্ষ সন্ত্রাসী ইলিয়াস হোসেন অপুর চাঁদাবাজি ও নির্যাতনে অসহায় হয়ে পড়েছেন এক ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসায়ী। দিনদিন এই সন্ত্রাসীর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জীবন রক্ষায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এই ব্যবসায়ী নূরুল কবির।

জানা যায়, পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়ার বাসিন্দা নূরুল কবির ২০০৯ সাল থেকে সুনামের সাথে ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসা করে আসছেন। ২০২৪ সালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে ছোট সাজ্জাদ বেপরোয়া হয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইলিয়াস হোসেন অপু নগ্ন চাঁদাবাজিতে মেতে উঠে।
চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী তাহসিনকে হত্যার পর আলোচনায় আসে অপু। তাহসিন হত্যাকান্ডে ছোট সাজ্জাদের কেস পার্টনার হওয়ার পর উল্টো এই ঘটনাকে পুঁজি করে অপু এলাকার ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীকে চাঁদা প্রদানে বাধ্য করে। এসময় নুরুল কবিরের নিকট ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন ১ টাকাও চাঁদা দিবেন না।
চাঁদা না পেয়ে অপু কবিরের অনুপস্থিতিতে তার বাসার দরজা ভেঙ্গে নগদ ১৪ লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় । ঘটনার পর অপু চুরি ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়ার পর এলাকার পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে উঠে। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে এসে অপু আবারো চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি করে এলাকার মানুষের ঘুম হারাম করে দেয়।


একসময় চান্দগাঁও থানাধীন দিনে দুপুরে মাইক্রোবাসে গুলি করে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় ইলিয়াস হোসেন অপুকে গ্রেফতার করা হয়-ফাইল ছবি

আরেক দূধর্ষ সন্ত্রাসী ও যুবলীগ ক্যাডার জয়নাল আবেদীন ওরফে সোহেলের সাথে হাত মিলিয়ে বখাটে কিশোরদের সমন্বয়ে একটি গ্যাং তৈরী করে বনে যায় এলাকার অপরাধ সাম্রাজ্যের নায়ক। অপুর আপন ভাই ফয়সাল, টোকাই ইমরান ও মিটু, ছাত্রলীগের ক্যাডার আজগর আলী মিন্টুসহ বিভিন্ন চিহ্নিত দাগী অপরাধীরা একজোট হয়ে এলাকায় সকল প্রকার অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে থাকে।

সম্প্রতি সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী নূরুল কবিরের নিকট পুনরায় দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ১/৬/২০২৬ ইং তারিখ রাতে নূরুল কবিরকে তুলে নিয়ে সোহেলের গ্যারেজে আটকে রেখে মারধর এবং মোটরসাইকেল ভাংচুর করে নগদ ১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চাঁদা না পেলে পুনরায় অপহরণের হুমকি দেয়। উক্ত ঘটনার পরদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে সোহেল তার দলবল নিয়ে এসে নূরুল কবিরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এসময় তার স্ত্রীকেও ব্যাপক মারধর করে। উক্ত ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। ৬/৬/২০২৬ইং তারিখের দায়েরকৃত মামলা নং ৪ এবং ২৭/৬/২০২৬ ইং তারিখের দায়েরকৃত মামলা নং ২৩। উভয় মামলায় সোহেলকে ৪ নং আসামি করা হয়।

পুলিশের বিশেষ অভিযানে জয়নাল আবেদীন সোহেল এবং ইমরান গ্রেফতার হলেও অজানা কারণে অপু, ফয়সাল, আজগর আলী মিন্টুসহ অন্য আসামিরা ধরা -ছোয়ার বাইরে। পুলিশ তাদেরকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানালেও তারা এলাকায় বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করে নূরুল কবিরকে মামলা নামানোর জন্য অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সন্ত্রাসী অপু তার দলবল নিয়ে এসে নূরুল কবিরের সম্পূর্ণ ডিশ-ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে ক্যাবল এবং একটি স্প্লাইসার মেশিন নিয়ে যায়, যেসবের মূল্য প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা। রাতে কবিরের বাসগৃহের বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে কবিরকে বেরিয়ে আসার জন্য বলে, বের না হলে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেয়। এসময় ৯৯৯ এর ফোন পেয়ে পাঁচলাইশ থানার এএসআই রফিকের নেতৃত্বে একটা টিম ঘটনাস্থলে আসলে তারা পালিয়ে যায়।

ঘটনার ব্যপারে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূরুল কবির বলেন, তিনি একজন ছোট ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসায়ী। সন্ত্রাসীদেরকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাদেরকে চাঁদা না দেওয়ায় তার উপর এতো নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। বারবার লাইন কেটে দেওয়ায় তার ব্যবসা এখন ধ্বংসের পথে। সন্ত্রাসীরা তার উপর একাধিকবার হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে, ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও কিরিচের কোপে তার বাম হাত অনেকটা অবশ হয়ে গেছে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হলে যেকোনো সময় তার জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জকে একাধিকবার ফোন করলে তিনি রিসিভ করেন নি। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

Check Also

তেল মেখে প্যাকেটজাত করে খেজুর বিক্রি, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরীর ফলমন্ডিতে খেজুরে তেল মেখে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করার …