
নিজস্ব প্রতিবেদক :চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিধবার ভিটি ভূমি জবরদখল করে গৃহ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে অনুপ কুমার ধর নামের একজন উশৃংখল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাল দলিল সৃজনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সালিশকেও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আইনের কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে পাকা গৃহের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, হাটহাজারী থানাধীন নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বণিক পাড়ার শ্রী শ্রী হরি মন্দির সংলগ্ন মৃত কিশোর কুমার ধরের স্ত্রী বিষ্ণু বালা ধরের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অনুপ কুমার ধর তার ভিটি ভূমি জবরদখল করে গৃহ নির্মাণের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী বিষ্ণু বালা ধর নাঙ্গলমোড়া হিন্দু ঐক্য পরিষদে অভিযোগ প্রদান করলে পরিষদের পক্ষ থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হলে অভিযুক্ত অনুপ কুমার ধর এবং তার স্ত্রী তাতে কর্ণপাত না করে উল্টো সালিশ কারকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন।
জানা যায়, অনুপ কুমার ধর এক সময় পরিবার নিয়ে বণিক পাড়ায় বসবাস করতেন। কিন্তু প্রায় ২০-২৫ বছর পূর্বে সমস্ত ভিটি ভূমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যায়। কিছুদিন পূর্বে তারা এলাকায় ফিরে এসে জানায় তাদের থাকার কোন জায়গা নেই। তাদের অসহায়ত্ব দেখে নাঙ্গলমোড়া হিন্দু ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের সুপারিশে বিষ্ণু বালা ধর তার বাড়ীতে স্থান দেয়। সেটাই এখন কাল হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি চিকিৎসার জন্য শহরে গেলে সুচতুর অনুপ ধর লোকজন নিয়ে রাতারাতি বিষ্ণু বালার পুরাতন বেড়ার ঘর ভেঙ্গে সেমিপাকা গৃহের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। শহর থেকে এসে তাদেরকে কাজ করতে বাধা প্রদান করলে অনুপ ধর উশৃংখল লোকজন নিয়ে বিষ্ণু বালার উপর হামলা চালায়। বিভিন্ন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন রাতের বেলায় মদ্যপ অবস্থায় বিষ্ণুর দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
আরো জানা যায়, অনুপ ধর তার জীবিত বাবাকে ১৩ বছর আগেই ‘মৃত’ সাজিয়ে জাল দলিল সৃজন করেন। সেটার প্রমাণ মেলে অনুপ ধর প্রতিপক্ষ শুভ ধর গং এর বিরুদ্ধে যেই অপর ১৯৮/২০২১ নং মামলায় দেখিয়েছেন ১৯৮৮ সালে ফণীভূষণ ধর মৃত্যু বরণ করেছেন এবং যতো বিক্রি কবলা রয়েছে সব মিথ্যা ও বানোয়াট। যদি ১৯৮৮ সালে ফণীভূষণ মৃত্যু বরণ করেন তাহলে ২৫/১১/২০০১ সালে জহুর আহমদ চৌধুরীর নিকট কিভাবে জায়গা বিক্রি করলো এবং জহুর আহমদ চৌধুরীর দলিল কেন মিথ্যা নয়? উক্ত মামলায় অনুপ ধর দেখিয়েছেন তার মাতা কল্পনা রাণী নিরক্ষর ছিলেন তাই ২৭/০৭/১৯৮১ইং তারিখে রাজেন্দ্র লাল ধর এর নিকট বিক্রিত দলিল জাল ও ফেরবী। তাহলে কল্পনা রাণী নিরক্ষর থাকলে ০৪/০৩/১৯৭৭ ইং তারিখের ৮২০ নং এবং ২৪/০২/১৯৯৩ ইং তারিখের ৫৭৪ নং দলিলে কিভাবে স্বাক্ষর করলেন? এছাড়া ২৭/০৭/১৯৮১ ইং তারিখের রেজিস্ট্রিকৃত ৩০৭১ নং এবং ২৩/০৬/১৯৯০ ইং তারিখের রেজিস্ট্রিকৃত ২২৭৩ নং দলিল জাল ও ফেরবী হয়ে থাকলে ২৫/১১/২০০১ ইং তারিখে জহুর আহমদ চৌধুরীর কাছে বিক্রিত দলিল নং ৩৬৯০ ও ৩৬৯১ কেন জাল ও ফেরবী নয়? বাদীর এই দুটি দলিলের বিষয়েও আপত্তি তুলার কথা।
এমন নির্যাতন নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিষ্ণু বালা বলেন, বিয়ের মাত্র ১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুর পর অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতেছেন। এই অবস্থায় স্বামীর ভিটি ভূমি দখল করে গৃহ নির্মাণ করতে অনুপ ধর লোকজন নিয়ে তার উপর শারিরীক-মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেছেন। এসব নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে মুক্ত হয়ে পিতৃহীন ছেলেকে নিয়ে নিরাপদে জীবনযাপন করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অনুপ ধরের স্ত্রী রত্না ধর বলেন, আমরা ৩০ বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসতেছি। জমি নিয়ে মামলা চলতেছে, কোন প্রকার জবরদখল করা হয়নি। নাল জমি নিয়ে মামলা চললেও ভিটি ভূমি নিয়ে মামলার কোন প্রমাণ দেখাতে বললে তিনি কোন জবাব দিতে পারেননি। রাতের আঁধারে কেন নির্মাণ কাজ করা হয় জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
নাঙ্গলমোড়া হিন্দু ঐক্য পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুুমার ধর বলেন, আমাদের সংগঠন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু অনুপ কুমার ধর গায়ের জোরে অসহায় বিধবা বিষ্ণু বালা ধরের ভিটি ভূমি দখল করে জোরপূর্বক গৃহ নির্মাণ করতেছে। আমরা বাঁধা দেওয়ায় উল্টো আমাদেরকে কটুক্তি করতেছে। অপকর্মে জড়িত থাকায় সবার অনুরোধে তাকে সমাজ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাঙ্গলমোড়া হিন্দু ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সত্য নারায়ণ ধর বলেন, অনুপ কুমার ধর তাদের সামাজিক সালিশ অমান্য করার পর বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করলে তিনি হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। আমরা অনুপ ধরের পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বলেন, অনুপ কুমার ধর একজন প্রতারক ও জাল জালিয়াতকারী। জাল দলিল সৃজন করে মানুষের জমি দখল করাই তার পেশা ও নেশা। দরিদ্র ও অসহায় হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনুপ ধর বিষ্ণু বালার উপর জুলুম করে জোরপূর্বক ভিটি ভূমি দখলের চেষ্টা করতেছে। তার এমন জুলুম-নির্যাতন প্রতিরোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
