শিরোনাম

চট্টগ্রামে ঘাঁটি গেড়েছে ‘ডিজিটাল দস্যুরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সেখানে টিকতে না পেরে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছিল আন্তর্জাতিক এই ডিজিটাল দস্যুরা। চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার একটি বাড়ি ভাড়া করে তারা রীতিমতো ‘সার্ভার ও ওয়ার্ক স্টেশন’ বসিয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টারটেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ।গ্রেপ্তার বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে ৩৫ জন লাওসের নাগরিক। এ ছাড়া পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন।
আজ শুক্রবার বিকালে দামপাড়া পুলিশ লাইনসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের মামুন নামের এক দুবাই প্রবাসীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে তারা এই সাইবার অপরাধের আস্তানা গড়ে তুলেছিল। বাংলাদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
প্রতারণার কৌশল ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেছেন, ‘তারা মূলত বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করে। এরপর বিভিন্ন জনকে অনলাইন জুয়া খেলার অফার দেয় এবং চাকরির ভুয়া ফাঁদ তৈরি করে। লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলায় তারা সেখানে কাজগুলো করতে না পেরে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে। এখানে তারা প্রতারণার ফাঁদ পাতা মাত্র শুরু করেছিল। আমরা তাদের যত কম্পিউটার ও ল্যাপটপ পেয়েছি, কোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলোর ফরেনসিক রিপোর্ট এলে কার কার সাথে তারা প্রতারণা করেছে, সেই বিষয়গুলো পুরোপুরি উঠে আসবে।’
এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কীভাবে দেশে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের ভিসার মেয়াদ আছে কি না, তা জানতে পারেনি পুলিশ। কারণ গ্রেপ্তার কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কোনো সংঘবদ্ধ চক্র তাদের বাসা ভাড়াসহ বিভিন্ন লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে বলে ধারণা করছে তারা।
পাসপোর্ট না থাকার বিষয়ে মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেছেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি তাদের পাসপোর্টগুলো এক বাংলাদেশির কাছে জমা রাখা আছে। স্থানীয় ওই ব্যক্তির সহযোগিতাতেই তারা এই বাসাটা ভাড়া নিয়েছে। তাকে আমরা খুঁজছি। পাসপোর্টধারীকে যদি আমরা গ্রেপ্তার করতে পারি, তাহলে আমরা মূল জায়গায় যেতে পারব এবং তারা বৈধ নাকি অবৈধভাবে দেশে অবস্থান করছে, তা যাচাই করা যাবে।’
বিদেশিদের আস্তানা থেকে একটি আধুনিক আইটি কার্যালয়ের মতো বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৩৪টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, মনিটর, কি-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, ৫টি পেনড্রাইভ এবং ৪টি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড। এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২১, ২২ ও ২৩ ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের রিমান্ডে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের মূল হোতা এবং দেশীয় সহযোগীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

Check Also

চট্টগ্রামে বসছে পানির ১০০ এটিএম বুথ : ওয়াসা ও ওয়াটার এইডের চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরের পানি সংকটপূর্ণ এলাকা ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী …