শিরোনাম
Home / চট্টগ্রাম / একসঙ্গে ফিরছে রাঙ্গুনিয়ার ৪ ভাইয়ের মরদেহ, প্রস্তুত চার কবর

একসঙ্গে ফিরছে রাঙ্গুনিয়ার ৪ ভাইয়ের মরদেহ, প্রস্তুত চার কবর

অনলাইন ডেস্ক : ওমানে গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার ভাইয়ের মরদেহ মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে দেশে ফিরছে। স্বজনদের শেষ বিদায় জানাতে বাড়ির পাশে কবরস্থানে চলছে কবর খননের কাজ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতদের ভাই এনামুল হক এনাম।নিহত চার ভাই হলেন– রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাদের বাবার নাম মৃত জামাল উদ্দিন। রাশেদুল ও শাহেদুল বিবাহিত ছিলেন। সিরাজুল ও শহিদুল ছিলেন অবিবাহিত।
আজ সকাল ৯টা থেকেই রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দেরাজ পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে চার ভাইয়ের জন্য পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। আগামীকাল বুধবার সকালে জানাজা শেষে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (বিজি-৭২২) চার ভাইয়ের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১০টার দিকে ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাবে।
এনামুল হক এনাম জানান, বুধবার বেলা ১০টার দিকে হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বন্দেরাজ পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হবে। এই ফ্লাইটে নিহতদের স্বজন মো. ফজলুল হকও ওমান থেকে দেশে ফিরছেন।
চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী জানান, ওমান সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় সব আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মরদেহ পরিবহনের কার্গো খরচ বহন করছে। এছাড়া ওমান চট্টগ্রাম সমিতির পক্ষ থেকে হাসপাতালের হিমঘর বিল, কাফনের কাপড় ও গোসলসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ মেটানো হয়েছে। পরিবারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে (বুধবার) রাতে ওমানের আল মুলাদ্দাহ এলাকায় গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামে একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হয়। তাঁরা লালানগর ইউনিয়নের বন্দেরাজ পাড়া গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে।সন্তানদের ফেরার প্রতীক্ষায় অসুস্থ বৃদ্ধা মা ও স্বজনদের আহাজারিতে পুরো লালানগর এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। পাড়া-প্রতিবেশীরাও চার রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন করুণ বিদায় মেনে নিতে পারছেন না।

Check Also

প্রধানমন্ত্রী : জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার এদেশের মাটিতেই হবে

অনলাইন ডেস্ক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান …