
ঘোষণা ডেস্ক :চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মুজিবুর রহমানের নগরীর চন্দনপুরা এলাকার বাসভবন লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার(২ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে এসে ৭–৮ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়।
হামলার সময় মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাসায় অবস্থান করলেও সৌভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হননি। তবে একাধিক রাউন্ড গুলিতে বাড়ির প্রধান গেট, দারোয়ানদের কক্ষ ও জানালার কাঁচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, ভোরে সন্ত্রাসীরা বাড়ির সামনে ও পেছনে অবস্থান নিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে এটি চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে করা হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে দুবাই থেকে ‘বড় সাজ্জাদ’ পরিচয়ে একটি বিদেশি নম্বর থেকে মুজিবুর রহমানের মোবাইলে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। হামলাকারীরা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বলেন, “মাস দেড়েক আগে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিইনি। আজ ভোরে ঘুমের মধ্যেই বাড়ির সামনে এসে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।”
পুলিশ জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন। ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ‘সাজ্জাদ হোসেন খান’ নামে তাঁর নাম রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
নগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী ও রাউজানসহ অন্তত পাঁচটি থানা এলাকায় সাজ্জাদ বাহিনীর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনার পর স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ জানান, এখনো মামলা দায়ের না হলেও এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এদিকে, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তার বাসভবনে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছে।
বিজিএমইএর পরিচালক সাইফ উল্লাহ মনসুর বলেন, “শিল্প উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। সন্ত্রাসীরা যদি প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
উল্লেখ্য, স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমান অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও কোন ভায়োলেন্সের সাথে জড়িত থাকার কোন অভিযোগ নেই, এবং তিনি একজন মানবদরদী, সমাজ হিতৈষী দানবীর ও সমাজসেবক হিসাবে দল-মত সবার কাছে প্রশংসনীয় একজন ব্যক্তিত্ব। স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের বাড়িতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া গুলি বর্ষনে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপরাধ ঘোষনা aporadhghoshona
