
বিশেষ প্রতিনিধি :চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন কালামিয়া বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার ভাড়া বাসায় ৩৬ টি দ্বৈত অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। এই অবৈধ গ্যাস সংযোগের উৎস তার বাসভবন হলেও সেই মূল সংযোগের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদকসহ আরো কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সম্প্রতি উক্ত অবৈধ সংযোগ নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গিয়ে অবৈধ সংযোগের সত্যতা পেয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো: সালাহউদ্দিন এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এবং গত রবিবার (৯ আগষ্ট) ভিজিল্যান্স টিম প্রেরণ করেন। টিম ৩৬টি অবৈধ সংযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে শুধুমাত্র সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে পাইপ অপসারণ কিংবা বিনষ্ট না করে এবং কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে চলে যান।
পরবর্তীতে জানতে চাইলে ভিজিল্যান্স টিমের ব্যবস্থাপক আব্দুল বাতিন বলেন, অভিযান পরিচালনার পর বিধি মোতাবেক ফাইলটি বিক্রয় বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে বিক্রয় বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আপেল মাহমুদ বলেন, ভিজিল্যান্স টিম সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করলেও সেটা বৈধ নাকি অবৈধ সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এমনকি মূল সংযোগের গ্রাহক সংকেতও জানা যায়নি মর্মে জানান। সবকিছু নিশ্চিত হয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভিজিল্যান্স টিম অবৈধ সংযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরেও সংযোগটি অবৈধ কিনা এমন আশংকা প্রকাশ করায় এই কর্মকর্তার সততা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জানা যায়, বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আবাসিকের উত্তর পাশে ৫ নং ব্রীজ সংলগ্ন খালপাড়ের আবদুর নূর সড়কে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী উমর ফারুকের বাস ভবন থেকে তার নিজের এবং ২ ভাইয়ের ভাড়া কলোনী ও ৫ তলা ভবনে পানির প্লাস্টিক পাইপের মাধ্যমে ৩৬টি অবৈধ দ্বৈত গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের দিকে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই সংযোগ দেন উমর ফারুক। কর্তৃপক্ষ তাকে একাধিক বার জরিমানাসহ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে শাস্তির আওতায় আনলেও সম্পূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করায় কিংবা তার বাসভবনের মূল সংযোগের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি চোরাই সংযোগ আবারো লাগানোর মতো দুঃসাহস দেখান। এই চোরাই সংযোগের মাধ্যমে ১৫ বছরে সরকারের প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব বেহাত হয়।
এলাকাবাসী জানান, উমর ফারুক খুবই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তাই আওয়ামী সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পেতো না। তিনি দিনদুপুরে রাস্তা খুঁড়ে এই অবৈধ সংযোগ লাগালেও কারো কিছুই করার ছিলো না। কেউ না বুঝার জন্য কৌশলগত কারণে পানির প্লাস্টিক পাইপের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ লাগিয়েছেন তারা। কিন্তু প্লাস্টিক পাইপের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দেওয়ায় পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটায়। কখন বড় দূর্ঘটনা ঘটে সেই চিন্তায় সবার ঘুম হারাম। তাই এলাকাবাসী কর্তৃপক্ষের নিকট এই বিষয়ে স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করেন।