
বিশেষ প্রতিনিধি :সরকারি ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের পরে কর্মকর্তাদের গাড়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পার্কিংয়ে (পুল) থাকার কথা থাকলেও মাঝেমধ্যে কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়। অনেক দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ী অফিসের কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করেন। কোন কোন কর্মকর্তার গাড়ী পারিবারিক কাজে হঠাৎ দেখা গেলেও প্রতিনিয়ত দেখা মেলে সিডিএ নির্বাহী প্রকৌশলী আ.হ.ম. মিছবাহ উদ্দীনের নামে বরাদ্দকৃত পাজেরো জিপ, যার নং- চট্টমেট্রো-ঘ-১১-১২৯৬। সরকারি ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের পরে এই গাড়ীটি উক্ত কর্মকর্তা এবং তার গাড়ী চালক মহিউদ্দিন পারিবারিক কাজে ব্যবহার করেন সমানতালে। মহিউদ্দিন জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় ৩-৪টি মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হওয়ার পরেও অজ্ঞাত কারণে তিনি এখনো বহাল তবিয়তে। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার নীচের কোন কর্মকর্তা গাড়ীতে ফ্ল্যাগ কিংবা ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও বিধি বহির্ভূতভাবে এই গাড়ীতে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ব্যবহার করা হয়। যার কারণে গাড়িটি নিয়ে প্রশাসনও বিভ্রান্তিতে থাকে।
জানা যায়, সিডিএ নির্বাহী প্রকৌশলী আ.হ.ম. মিছবাহ উদ্দীন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের সহোদর। তিনি জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হলেও আওয়ামী সরকারের আমলে ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সকল অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেন। তার ছত্রছায়ায় আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন গাড়ী চালক মহিউদ্দিন। তিনি সিডিএ কর্মচারীলীগের সহ-সভাপতি হওয়ায় অনেক সময় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকেও পাত্তা দিতেন না। ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। গত ২১শে মার্চ মহিউদ্দিনের এসব অনিয়ম- দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে সময়ের কণ্ঠস্বর’র চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি গাজী গোফরানকে প্রতিনিয়ত দেখে নেওয়ার তথা জানে মারার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
ঈদের ৩য় দিন বুধবার (২ এপ্রিল) সাংবাদিক গাজী গোফরান এবং অত্র প্রতিবেদনের প্রতিবেদক অপরাধ ঘোষণা’র বিশেষ প্রতিনিধি মো: জিয়াউল হক ব্যক্তিগত কাজে বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর এলাকায় গেলে সেখানে নির্বাহী প্রকৌশলী আ.হ.ম. মিছবাহ উদ্দীনের বরাদ্দকৃত পাজেরো জিপটি দেখে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করলে চালক মহিউদ্দিন অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকে। সাংবাদিক গাজী গোফরান বাইক চালিয়ে কালামিয়া বাজার মোড় পর্যন্ত আসলে মহিউদ্দিন হত্যার উদ্দেশ্যে উক্ত জিপ দিয়ে বাইককে চাপ দেয়। এতে বাইক রাস্তার পাশে পড়ে গেলেও ২ আরোহী এবং বাইকের তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এসময় আবার বাইক চালিয়ে উক্ত গাড়ীর সামনে গিয়ে চাপ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মহিউদ্দিন হুমকি দিয়ে বলে ‘আজকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছিস, আরেকদিন সামনে পেলে একদম পিষে মেরে ফেলবো। আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার মজা তখন টের পাবি।’
গাড়ীতে চালকের আসনে মহিউদ্দিন, চালকের আসনের পাশে এক যুবক এবং ভেতরে কয়েকজন নারী দেখা যায়। গাড়ীতে কারা ছিলো এবং কোথায় যাচ্ছিলো এই ব্যাপারে জানতে আ.হ.ম. মিছবাহ উদ্দীনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি বাসায় আছি, কোথাও বের হইনি। হয়তো চালক মহিউদ্দিন পরিবার নিয়ে কোথাও গেছেন। পারিবারিক কাজে সরকারি গাড়ী ব্যবহার করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সেই বিষয়টি ক্ষমা ও সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান।
হত্যার হুমকির ঘটনায় সাংবাদিক গাজী গোফরান বাকলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ০২/০৪/২০২৫ইং তারিখের সাধারণ ডায়েরী নং-৯৪।