অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম একটা পুরোনো অ্যানালগ জায়গাতে দাঁড়িয়ে আছে, যাকে একটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। আমরা ডিসিদের পরামর্শ দিয়েছি, তারাও যেন প্রস্তুত থাকেন।ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ দিন বুধবার (৬ মে) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, সচিব মাহবুবা ফারজানা, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।ডিসিদের উদ্দেশ্যে কী নির্দেশনা দিলেন– প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আমরা একটা রূপান্তরিত গণমাধ্যম ইকোসিস্টেমের মধ্যে প্রবেশ করতে যাচ্ছি এবং এরকম একটা পর্বকে এর আগে খুব ভালোভাবে চিহ্নিত না করার ফলে গৎবাঁধা সব ধরনের কথা, চিন্তা এবং কাজ ছিল। কিন্তু গৎবাঁধা চিন্তা এবং কথা বলতে চাই না বলেই আমরা সমস্যাটাকে ভালোভাবে বুঝতে চাই এবং সেই বোঝাবুঝির পর্বটা এখনো শেষ করতে পারিনি।আমরা সেটাকেই গুরুত্ব দিয়েছি। তবে যে সমস্ত কাজ খুব জরুরি, যেগুলোতে হাত দেওয়া যেতে পারে, যেমন আমাদের মিস ইনফরমেশন এবং আমাদের ডিসইনফরমেশনকে কমব্যাট করা, ফেস করা, যতটা সম্ভব গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগ রেখে একটা নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে আনা, সেগুলোর দিকে আমরা মনোযোগ দেব।
‘কিন্তু সমস্যাটা এরকম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নয়, গণমাধ্যমের সমস্যাটা অনেক ব্যাপক, কেননা গণমাধ্যম একটা পুরোনো অ্যানালগ জায়গাতে দাঁড়িয়ে আছে, যাকে একটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। আমরা ডিসি সাহেবদের পরামর্শ দিয়েছি, তারাও যেন প্রস্তুত থাকেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যখন আমরা এই সক্ষমতা নিয়ে হাজির হবো, তখন তারা তাদের সহযোগিতা এবং তাদের কর্মসূচিগুলোকে তারা এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকদের ডিসিদের কাছে তথ্য পেতে গেলে অনেক রকম সমস্যায় পড়তে হয়। এ জায়গায় আপনাদের সব ধরনের কোনো নির্দেশনা দিয়েছিলেন কি না– প্রশ্নে সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কোঅর্ডিনেশনের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন জেলা কোঅর্ডিনেশন মিটিং থাকে, সেখানে যেন আপনাদের সম্পৃক্ত করা হয়। জেলা পর্যায়ে যারা সাংবাদিক ভাইয়েরা আছেন, তাদের সাথে একসঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছি এবং অনুরোধ করেছি। যেন প্রত্যেকটা মিটিংয়ের প্রত্যেকটা সভায় যেন তাদেরকে ইনক্লুশন করে, অর্থাৎ তাদের সাথে যেন সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজটি সম্পন্ন করে। তাহলে ইনফরমেশনগুলো সেই মিটিংগুলো থেকে পাওয়া যাবে এবং আমার ধারণা, জেলা প্রশাসক মহোদয়রা সেটাই করবেন।
এ বিষয়ে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, তাদের কাছে আমাদের একটা কমন বার্তা আছে। সেটা হচ্ছে, এটা একটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার এবং ভবিষ্যতেও সে আবার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বে থাকতে চায়। এই সরকার আসলে তথ্য গোপন করার যে প্রবণতা আগে দেখেছেন, যুক্তি বলে যে সরকার এটা করতে যাবে না।
তিনি বলেন, আমাদের একটা তথ্য কমিশন আছে। আমরা এটা এখনো গঠন করিনি, খুব দ্রুত করব। তথ্য কমিশনও আগে ঠিকঠাক মতো কাজ করতে পারেনি। আমরা যেখানে যেখানে সমস্যা থাকলে, সেটার জন্য যেহেতু একটা কমিশন হবে, আমরা সেটাকে স্বাধীনভাবেই কাজ করতে দেব। সেটা তারা বাকিটা ডিল করতে পারবে। সো, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের ডিসি মহোদয়রা এবং সবকিছু মিলে একটা বেটার খোলা ইনফরমেশনের জায়গা তৈরি করবে।
ডিসিদের বিশেষ প্রস্তাব ছিল, যে গুজব ফ্যাক্ট চেকিং করার জন্য একটা স্থাপনা করার জন্য, জেলায় জেলায় গুজব ফ্যাক্ট চেকিং করার জন্য, এটা কি আপনারা অ্যাপ্রুভ করেছেন অথবা সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না আপনাদের– এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, একটা প্রকল্প আমরা অলরেডি নিয়েছি। সেটার আওতায় আমরা এই কাজগুলো করে যাব। ওটার সঙ্গে আমাদের জেলা পর্যায়ের যে তথ্যের যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে, সেটাকে ইন্টিগ্রেট করে ফেলব আমরা। এবং মন্ত্রী এটাও বলেছেন, খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এটাও যে, আমাদের তথ্য যে সার্ভিসটা ছিল সরকারের, তারাও যে বিদ্যমান নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে তার সঙ্গে যতটুকু পারছেন, কোঅপ্ট করছেন, যতটুকু অভাব আছে, তাদের ট্রেনিং দিয়ে আমরা সেটার সঙ্গে আমরা যোগ্য করে তুলব।
টেলিভিশনের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে নোয়াবের (পত্রিকা মালিক সমিতি) সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এ ব্যাপারে একটা নীতিগত আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি তৈরি করতে পেরেছি। এরপর টেলিভিশন মালিক সমিতির সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে। যেহেতু এটা মূলত মালিক পক্ষের বিষয়, এটা তো একটা শিল্প এবং এটা মূলত তো উদ্যোক্তার বিষয়। এখানে এমপ্লয়ার হচ্ছেন তারা, এমপ্লয়ী হচ্ছেন সম্মানিত সাংবাদিকরা। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার কারণে, আপনারা সম্মানিত পেশার মানুষ হওয়ার কারণে, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এমপ্লয়াররা আপনাদের মতো সম্মানিত এমপ্লয়ীদের যথাযথ আইন অনুযায়ী মর্যাদাদান, বেতন কাঠামোতে রাখলেন কি না, জবের সিকিউরিটি থাকল কি না, নিরাপত্তা থাকল কি না—দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, তাকে নিশ্চিত করার উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করব। কিন্তু রাজি করাতে হবে ওই বেসরকারি উদ্যোক্তা এবং মালিকদেরকে। আমাদের মন্ত্রণালয়ে অন্যান্য সমস্যার মতো, এই সমস্যাকেও আমরা খুব যথাযথভাবে চিহ্নিত করেছি। একইসঙ্গে... একইসঙ্গে এ কথা আপনাদের খেয়াল করতে হবে যে, তথ্য উদ্যোক্তাদের ওয়েজ বোর্ড দিতে সক্ষম অথবা সক্ষম কম। এর বাইরে, এত বিশালসংখ্যক গণমাধ্যম মালিক এবং সাংবাদিক পরিচয়ের এত বিশালসংখ্যক লোক তৈরি হয়েছেন যে, পেশাদার সাংবাদিকরাই আমাদের কাছে বারবার দাবি তুলছেন অথবা যারা প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম হাউস, তারাই দাবি তুলছেন যে, ভাসমান সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আপনারা ব্যবস্থা নিন। আবার অপরদিকে, এরা সম্মিলিতভাবে জড়ো হলে পরে, সেটাও কিন্তু একটা কমিউনিটি। ফলে আমাদের কিন্তু সবদিক বিচার-বিবেচনা করে পথ চলতে হচ্ছে। তবে আমরা খুব আশাবাদী, অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে অচিরেই সমাধান করব, ইনশাআল্লাহ।