নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এতে গ্রেফতার ও আটক হয়েছেন এক হাজার ২২৪ জন।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় এ অভিযান চালানো হয়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৯৪, আগের মামলায় ৭০, ৩৪ ধারায় ৫০ ও ৫৪ ধারায় তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন। এছাড়া ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩২, পরোয়ানামূলে ১৭৬ ও সাজা পরোয়ানামূলে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

মাদকসংক্রান্ত অপরাধে গ্রেফতার হয়েছেন ১৫২ জন। তাদের মধ্যে মাদক বহনকারী এক, মাদকসেবী ৯৪ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে ৫৭ জন রয়েছেন। এসময় ৪১টি মাদক মামলা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৮ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১২ হাজার ৭০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় সাত হাজার ৬৪৪টি ইয়াবা, ৩৮ কেজি ১৪০ গ্রাম গাঁজা, ১৯৮ লিটার চোলাই মদ, বিদেশি মদের ৪৯ বোতল, দুই ক্যান বিয়ার এবং ১০০ বোতল স্কাফ সিরাপ।
অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য সন্দেহে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের চার, কক্সবাজারের দুই, কুমিল্লার দুই, চাঁদপুরের এক, নোয়াখালীর দুই ও খাগড়াছড়ির দুইজন রয়েছেন।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক হয় ৬১৭ জন। তাদের মধ্যে ৪৫৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়। বাকি ১৬০ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ২৫৩ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া লক্ষ্মীপুরে ১২৮, চট্টগ্রামে ৮১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪১, নোয়াখালীতে ৩৪, রাঙামাটিতে ৩০, কক্সবাজারে ১৮, খাগড়াছড়িতে ১৭, চাঁদপুরে ১০ ও ফেনীতে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জনস্বার্থে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
