শিরোনাম

সরকারি গাছ ‘লুটপাটের’ বিরোধে পিচ্চি জাহেদ খুন : এসপি মাসুদ আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৮ দিন আগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী জাহেদুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি জাহেদ খুন হন। হত্যার সঙ্গে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, সরকারি গাছ লুটপাট নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যায় জড়িতরা স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য মিলেছে। আজ বুধবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম আসামি গ্রেপ্তার ও তদন্তে পাওয়া বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। গ্রেপ্তার ১২ জন হলেন, জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), রিদুয়ান (২৬), মোহাম্মদ টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ফারুক (৫২), রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম হাবিব (২৮), মোহাম্মদ হেলাল (২৭) ও মোহাম্মদ আজাদ (২৭)।
পুলিশ জানায়, হেলাল ও আজাদকে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। আজাদ হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের তথ্যে বাকি ১০ জনকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট রাতে সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের মনোয়ারাবাদ গ্রামে পিচ্চি জাহেদকে (৩০) কুপিয়ে খুন করা হয়। তার বাড়ি পুরানগড় ইউনিয়নের বড়দুয়ারা গ্রামে। এ ঘটনায় তার মা সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসপি মাসুদ আলম বললেন, ‘পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটা ও লুট নিয়ে পিচ্চি জাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন জয়নাল আবেদীন মানিক। ঘটনার রাতে মানিকসহ ৮-১০ জন নতুনহাট বাজারে একটি মিষ্টির দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। তখন পিচ্চি জাহেদ গিয়ে মানিককে গালিগালাজ করেন। বিভিন্ন হুমকিধমকি দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা জসীমের দোকানে এসে মিটিংয়ে বসেন। সেখানে জাহেদকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’
‘পরিকল্পনা অনুযায়ী জসীমের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সাতকানিয়া-বাজালিয়া সড়কের ভাঙার গোড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। তারা আগেই খবর পেয়েছিল যে জাহেদ ও তার বন্ধু ওয়াহিদ মোটর সাইকেল নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে আসছেন। তখন তারা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও এলোপাতাড়ি ভ্যান রেখে তাদের আটকায়। এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন জাহেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
নাম প্রকাশে অনাগ্রহী এক পুলিশ কর্মকর্তা বললেন, ‘জাহেদ নিজেও একাধিক মামলার আসামি। এলাকায় বিএনপির নামে দাপট দেখাত। হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি জসিম পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপির পদধারী নেতা। বাকি যারা আছেন তারাও বিএনপি, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের কেটে রাখা গাছ লুটপাট করা নিয়ে জাহেদের সঙ্গে মানিকের দ্বন্দ্ব হয়। সেই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটে।’
তবে ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল না বলে দাবি এসপি মাসুদ আলমের। তিনি বললেন, ‘ফেসবুক পোস্ট ও তাৎক্ষণিক দ্বন্দ্বের সূত্রপাত থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহারভুক্ত ১৩ জন আসামির মধ্যে ১২ জনকেই আমরা গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনার সঙ্গে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।’

Check Also

চট্টগ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৫৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৬ জনকে …