নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার ২৩ দিনের মাথায় মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মামলার প্রধান আসামি মো. শামীম।সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন এ তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, নিহত মো. রিফাত (২৮) পাহাড়তলী থানার আব্দুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২৩ জুন সকাল প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. সাজ্জাদ আলম শুভ কৌশলে রিফাতকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল সূফী চৌধুরী গ্যারেজসংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রধান আসামি মো. শামীম, মারুফ ও আরও কয়েকজন সহযোগী সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
র্যাব আরও জানায়, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা রিফাতকে চেপে ধরে মারধর করে। এ সময় প্রধান আসামি শামীম হত্যার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রিফাতের বাম পায়ের হাঁটুর ওপর সজোরে আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরদিন ২৪ জুন নিহতের ভাই বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে পাহাড়তলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১২ জুলাই দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে সীতাকুণ্ড থানার জলিল টেক্সটাইল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. শামীম (৩৫) ও দ্বিতীয় আসামি মো. সাজ্জাদ আলম শুভকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের পৃথক দুটি দল একই দিন বিকেল ২টা ৫৫ মিনিটে বায়েজিদ বোস্তামী থানার বালুছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার তৃতীয় আসামি মারুফকে (২৭) এবং বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে হালিশহরের মাইজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত সুমনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে।র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’