নিজস্ব প্রতিবেদক: অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসতি স্থাপন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।এর আগে সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে চট্টগ্রামে এসে বায়েজিদ ও হাটহাজারীর বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বায়েজিদে একটি পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঘটেছে।
বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কোথাও কোথাও ধসে বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবৈধভাবে পাহাড়ে বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসের কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন পার্বত্য জেলায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে রাঙ্গামাটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫০০ মেট্রিক টন চাল।
পাশাপাশি প্রতিটি জেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে জরুরি সহায়তা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিভাগজুড়ে ৩ হাজার ২০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুধু রাঙ্গামাটির ২৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সমসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ অবস্থান করছেন। টানা বৃষ্টির কারণে এই সংখ্যা আরও বাড়ছে।
জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি স্লুইসগেট ঠিকভাবে কাজ না করায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। এসব দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন, অন্যথায় জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ সময় সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন এবং জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।