নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেন চলাচল। প্রতিদিন এই পথে চার জোড়া ট্রেন চলে— দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে, দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে।নগরের ষোলশহর-জানালিহাট সেকশনের মাঝামাঝি সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় মঙ্গলবার দুপুর থেকেই পানির নিচে চলে যায় রেললাইন।
রেলওয়ের জনসংযোগ পরিচালক আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ওই স্থানে প্রায় দুই ফুট পানির নিচে ডুবে আছে লাইন। এর জেরে আজ বুধবার ভোরে ঢাকা থেকে ছাড়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস মাঝপথে চট্টগ্রামে আটকে যায়, কক্সবাজার পৌঁছাতে পারেনি ট্রেনটি। বিকাল চারটায় সেটি ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছাড়বে বলে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেছেন, ‘লাইনে পানি ওঠার কারণেই ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ট্রেন চালু করা হবে।’
বুধবার সকালে ডুবে যাওয়া রেললাইন সরেজমিন দেখতে শমসেরপাড়া এলাকায় ছুটে আসেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘রেললাইনের কয়েক ফুট ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ট্রেন চালানো হলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতেই ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।'যাত্রীদের ভোগান্তির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘টিকিটের টাকা যাত্রীদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ভারী বর্ষণেও যেন লাইন আর না ডোবে, সে জন্য রেললাইন পাঁচ ফুট পর্যন্ত উঁচু করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
যাত্রা বাতিলে বিপাকে যাত্রীরা
চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বুধবার সকালে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছাড়ার কথা ছিল সৈকত এক্সপ্রেসের। শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল হওয়ায় বিপদে পড়েন এই ট্রেনের যাত্রীরা। তাদেরই একজন আহাদ চৌধুরী জানান, তারা ১৩ বন্ধু মিলে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। বাড়ি কক্সবাজারে হলেও সিলেট ভ্রমণ শেষে উদয়ন ট্রেনে চট্টগ্রামে পৌঁছান তারা, এরপর সৈকত এক্সপ্রেসের টিকিট আগেই কাটা ছিল। কিন্তু কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই যাত্রা বাতিল হওয়ায় এখন বাসে করে গন্তব্যে ফিরতে হচ্ছে তাদের।
সৈকত এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে ফিরে বিকালে ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ নামে যে ট্রেনটি ছাড়ার কথা ছিল, তার যাত্রাও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
এই রেলপথে ঢাকা থেকে নিয়মিত চলাচল করে পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামের দুটি আন্তনগর ট্রেন, যেগুলো চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে কক্সবাজারের পথ ধরে। জলাবদ্ধতার কারণে এই দুটি ট্রেনেরও যাত্রা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।