অনলাইন ডেস্ক: অবিরাম বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে নগরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের প্রাতঃকালীন শিফটের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে যেতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক।সোমবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।একই সময়ে জোয়ারের পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন খাল-নালা উপচে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পানি ছড়িয়ে পড়ে। মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ ও কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়।
অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে।জলাবদ্ধতার কারণে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
গণপরিবহনের সংকট দেখা দেওয়ায় কর্মস্থলমুখী মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে বৃষ্টির মধ্যেই হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন।
এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সরকারি বিদ্যালয়ের মর্নিং শিফটের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে যেতে হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করলেও সরকারি বিদ্যালয়ের সকালের পরীক্ষা বিষয়ে শুরুতে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
বাকলিয়া এলাকার এক অভিভাবক বলেন, “চারদিকে পানি আর বৃষ্টি। তারপরও সন্তানকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। আগে সিদ্ধান্ত জানানো হলে এমন কষ্ট করতে হতো না।”
জলাবদ্ধতা ও যানবাহনের সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ভিজে অবস্থায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন অভিভাবকেরা।
পরে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর দিবা শাখার নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে সকালবেলার পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ তখনও কাটেনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নগরবাসীকে একই ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। খাল-নালা সংকুচিত হওয়া, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা এবং অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।