উখিয়া প্রতিনিধি : কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বিস্ফোরণে তার ডান পা গোড়ালি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চিকিৎসার জন্য কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এমন প্রাণঘাতী ঘটনার কারণে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়া সীমান্তের বালুখালী বিওপির আওতাধীন কাটাপাহাড় পোস্ট সংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৬৪ বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, উখিয়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২৫০ গজ ভেতরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে স্থলমাইনে বিস্ফোরণে মো. সালমান (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।
আহত সালমান উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি-৯ ব্লকের বাসিন্দা। তিনি মো. নিজামত আলীর ছেলে। কী কারণে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের ভেতরে গিয়েছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে, গত ২৪ মে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তেও স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ পাহাড়ি বাংলাদেশি নিহত হন। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কাঠ সংগ্রহের সময় তারা সীমান্ত অতিক্রম করলে মাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন— নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের লেঠাইয়া চাকমা (৪১), অংক্যামং চাকমা (৫০) ও চিংক্যা অং চাকমা (৪০)।
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৪০ জনের বেশি মানুষ পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।