নিজস্ব প্রতিবেদক : ৪৮ ঘণ্টার কম সময়ে চট্টগ্রাম নগরের ৫ জায়গায় ৭ শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার নগরের চান্দগাঁও এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী এক মুদি দোকানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শুক্রবার (২২ মে) রাতে চান্দগাঁও থানার সিঅ্যান্ডবি টেকবাজার এলাকার ইব্রাহিম কলোনিতে অভিযান চালিয়ে আশফাকুর রহমান নামের ওই দোকানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।পুলিশ ও মামলার সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার নিয়মিত ওই দোকান থেকে কেনাকাটা করত। বাসার পাশেই দোকান হওয়ায় শিশুটি প্রায়ই সেখানে খেলতে যেত। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ মে রাতে শিশুটিকে একা পেয়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়।এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার পর শিশুটি পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। তবে শিশুটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পরিবার প্রথমে ঘটনাটি গোপন রাখে। শুক্রবার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশের আশ্বাসে শিশুটির মা চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন। সেই মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুর হোসেন মামুন বলেন, শিশুটির পরিবারের করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।এর আগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক মক্তবশিক্ষককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। খুলশী আবহাওয়া অফিসসংলগ্ন রেললাইনের পাশের একটি মসজিদসংলগ্ন মক্তবে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আবদুল বাতেনের বাড়ি কুমিল্লায়। শিক্ষকতার সুবাদে তিনি ওই এলাকাতেই থাকতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী দুই বোনের বয়স আনুমানিক ১০ ও ৬ বছর। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের শিক্ষক ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে শিক্ষক ও দুই শিশুকে থানায় নেওয়া হয়।
একই দিন শুক্রবার দুপুরে নগরের বায়েজিদ থানার মোহাম্মদ নগর এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, ১০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানালে থানায় মামলা করা হয়।
এদিকে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন এক যুবককে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ থাকতে হয় পুলিশকে। পরে বিচারের আশ্বাস দিলে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে।