নিজস্ব প্রতিবেদক : সারাদেশে অননুমোদিত ও তথাকথিত অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান এবং সুদী কারবারিদের লাগাম টানতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে গেলেও কতিপয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জমজমাটভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন সুদের কারবার। এসব সুদী কারবারিরা চড়া সুদে ঋণ প্রদান করার সময় কঠিন শর্ত জুড়ে দিলও বিপদগ্রস্ত লোকজন বাধ্য হয়ে তাদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে এমন একজন সুদী কারবারির সন্ধান মিলেছে যিনি চড়া সুদে ঋণ প্রদান করার সময় খালি চেক/স্ট্যাম্প নিয়ে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে স্থায়ীভাবে বিপদের সম্মুখীন করে তুলেন। এই ব্যক্তি হলেন, চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানাধীন ২৮ নং ওয়ার্ডস্থ মোগলটুলী এলাকার জমির উদ্দিন লেইনের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ। বেশভূষায় ইসলামি লেবাস ধারণ করলেও তিনি অনেক জঘন্য প্রকৃতির লোক।
জানা যায়, আব্দুর রশিদ টাকার পরিমাণ অনুযায়ী মাসে ১০-১৫ %(শতাংশ) সুদ হারে ঋণ প্রদান করেন। কেউ তার নিকট থেকে যেকোনো পরিমাণের ঋণ নিলে ঋণ গ্রহীতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং খালি চেক/স্ট্যাম্প নিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে ঋণ গ্রহীতা তার শর্তমতে ঋণ পরিশোধে কোন ব্যতিক্রম হলে উক্ত ডকুমেন্টস ব্যবহার করে ইচ্ছেমতো টাকার পরিমাণ বসিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এতে ঋণ গ্রহীতা বাধ্য হয়ে সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও মামলা থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। তিনি অনেকের কাছে মামলাবাজ এবং টাউট হিসেবেও পরিচিত।
মাদারবাড়ি এলাকার কয়েকজন লোক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুদী রশিদ ঋণ দেওয়ার নামে মানুষকে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে। কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললে তাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করে। একসময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে তার উঠাবসা থাকলেও আওয়ামী সরকারের পতনের পর খোলস পাল্টে আপাদমস্তক জামায়াত নেতা বনে গেছেন। তার বানোয়াট চেকের মামলায় সালাহ উদ্দিনসহ কয়েকজন ইতোমধ্যে ফেরারী হয়ে আত্মগোপনে আছেন।এই ব্যাপারে জানার জন্য আব্দুর রশিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনে ফোন করে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।