শিরোনাম
Home / অনুসন্ধান / র‍্যাব হেফাজতে মৃত আর্থিক তালিকায় এডিসির নাম

র‍্যাব হেফাজতে মৃত আর্থিক তালিকায় এডিসির নাম

ঘোষণা ডেস্ক : র‌্যাব হেফাজতে মৃত নওগাঁ পৌরসভা-চণ্ডীপুর ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক সুলতানা জেসমিনের আর্থিক তালিকায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিল্টন চন্দ্র রায়ের নাম পাওয়া গেছে। সুলতানার হাতে লেখা তালিকাটি তাঁর স্বজনরা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির হাতে তুলে দিয়েছেন।

৪৬ পাতার তালিকার মধ্যে একটি পাতায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের একটি নম্বর, অঙ্কে ও কথায় লেখা ৫০ হাজার টাকা, ০৫/০১/২০২৩ তারিখ বৃহস্পতিবার ও এডিসি মিল্টনের নাম লেখা আছে। সবই সুলতানার হাতে লেখা বলে তাঁর স্বজনরা দাবি করেছেন।

সুলতানা জেসমিনের মামা নওগাঁ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এ কে এম নাজমূল হক মন্টু জানান, নওগাঁ শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তাঁর ভাগ্নি সুলতানা জেসমিন। সম্প্রতি সেই বাসা থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে গিয়ে আর্থিক লেনদেনের ৪৬ পাতার তালিকা পাওয়া যায়। সেই তালিকায় দেখা যায়, মৃত্যুর আগে সাম্প্রতিক সময়ে সুলতানা বেশ কয়েকটি মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে টাকা পাঠানোর কথা লিখে রেখেছিলেন। সেগুলো হাইকোর্টের নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সুলতানা জেসমিনের হাতে লেখা এসব তালিকার সূত্র ধরে অনুসন্ধান  ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এনামুল হকের করা মামলা ও মৃত্যুর ঘটনার অনেক রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তাঁর মামা।

সুলতানা জেসমিনের মৃত্যু ও তাঁর বিরুদ্ধে এনামুল হকের করা মামলার বিষয়টি তদন্ত করছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। সম্প্রতি জেলা সার্কিট হাউসে সুলতানার স্বজনদের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে তদন্ত কমিটি।

এই কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের জানান, খুঁটিনাটি সংশ্লিষ্ট সব বিষয়কেই প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত করছেন তাঁরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সুলতানার আর্থিক লেনদেনের প্রমাণপত্রে নাম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিল্টন চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।  সুলতানা জেসমিনকে তিনি চিনতেন না বলেও দাবি করেন।

সুলতানা জেসমিনের সঙ্গে তাঁর পরিবারের কারো কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেন এডিসি মিল্টন।

র‌্যাব-৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের একটি দল গত ২২ মার্চ সকালে সুলতানা জেসমিনকে আটক করে। স্থানীয় সরকারের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক মো. এনামুল হকের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে নিয়েই র‌্যাব এ অভিযান চালায়। এনামুল হকের অভিযোগ, জেসমিন ও আল আমিন নামের এক ব্যক্তি তাঁর (এনামুল হকের) ফেসবুক আইডি হ্যাক করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছিলেন বিভিন্নজনকে। এভাবে তাঁরা প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।

আটকের এক দিন পর ২৪ মার্চ সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুলতানা জেসমিন মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যুগ্ম সচিব এনামুল হকের করা একটি মামলার কথা জানা যায়, যেটি রেকর্ডের সময় ২৩ মার্চ বিকেলে। সুলতানা জেসমিন ও তাঁর কথিত সহযোগী আল-আমিনকে এতে আসামি করা হয়। আল-আমিনকে ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তিনি একজন মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট।

Check Also

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সামনে সেলাই মেশিন রেখে ছবি তুলে ফেরত নিলেন এলজিইডি প্রকৌশলী

ঘোষণা ডেস্ক : চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার বাসিন্দা মোসা. মিম আক্তার (২৪)। সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে একটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *